পৃথিবীর সবচেয়ে ভয়ংকর ৫টি খেলা

683

খেলার সাথে ভয়ংকর শব্দটা শুনে অনেকেই হয়তো হাসবেন। তার কারণ খেলাধুলা আমদের সকলেরই খুবই পছন্দের বিষয়। শরীর ও মনকে সুস্থ রাখার অন্যতম একটি মাধ্যম এটি। কিন্তু এমন যদি হয় যে খেলা হয়ে ওঠে প্রাননাশের কারণ তাহলে কেমন হবে? শুনতে অবাক লাগলে এ কথা সত্যি যে পৃথিবীর বিভিন্ন স্থানে এমন অনেক খেলার প্রচলন আছে যা অত্যন্ত ভয়ানক এবং বিপদজনক। এইসব খেলায় অংশ নিতে গিয়ে প্রতি বছর অনেক মানুষ প্রান হারায়। যেমন বড় কোনো পাহার বা বিল্ডিং থেকে লাফ দিয়ে তারপর প্যারাসুট ব্যাবহার করে মাটিতে নামা। বড় বড় ষাঁড়ের পীঠে বসে লাফালাফি করা, আরও কত কি! এসব খেলাকে আমাদের দেশের মানুষ পাগলামি বলে থাকে। পাগলামি বলি আর যাই বলি না কেন, এসব খেলা নিয়ে মানুষের মাঝে উৎসাহ উদ্দীপনার কমতি নেই। আজকে আপনাদের সাথে পরিচয় করিয়ে দিব পৃথিবীর সবচেয়ে ভয়ংকর ৫টি খেলা এর সাথে। থ্রিলার মাস্টার ইজ লোডিং নাও, স্টে উইথ আস…

পৃথিবীর সবচেয়ে ভয়ংকর ৫টি খেলা

১. বেস জাম্পিং

পৃথিবীর সবচেয়ে ভয়ংকর ৫টি খেলা এর তালিকায় সবার উপরে বেস জাম্পিং কে রাখতেই হচ্ছে! বেস জাম্পিং খেলাকে ধরা হয় বর্তমান সময়ের সবচেয়ে বিপদজনক খেলা হিসেবে। এই খেলাতে মৃত্যুর ঝুঁকি সবচেয়ে বেশী। এই খেলার মুল নিয়ম হচ্ছে- অনেক উঁচু কোন পাহাড়ের চুরায় উঠে নিচে লাফ দিয়ে পরা আর মাটিতে নামার সময় প্যারাসুট ব্যাবহার করে নিজেকে বিপদের হাত থেকে বাঁচানো। খেলাটি ঠিক প্যারাসুট জাম্পিংয়ের মতো। তবে প্যারাসুট জাম্পিং করার সময় ইচ্ছা মতো উচ্চতা নির্ধারণ করে নেয়া যায় এবং সেখানে মাটিতে পরার মতো যথেষ্ট সময় পাওয়া যায় বলে দুর্ঘটনা অনেক কম ঘটে। বেস জাম্পিং এর ক্ষেত্রে সেই সুযোগ থাকে না। পরিসংখ্যান অনুযায়ী প্রতি ৬০ টি বেস জাম্পিং দেবার সময় একটিতে দুর্ঘটনা ঘটে এবং সেখানে প্রাণহানির মতো ঘটনাও ঘটে থাকে। তবুও অ্যাডভেঞ্চার প্রেমী মানুষেরা কি আর থেমে থাকে। তাঁরা ঠিকই লাফ দেয় কোন কিছুর তোয়াক্কা না করে। নরওয়ে কে বেস জাম্পিংয়ের জন্য সবচেয়ে উত্তম দেশ বলা হয়ে থাকে কারন সেখানে আছে সুন্দর সবুজে ঘেরা উঁচু উঁচু পাহাড়।

২. কেভ ডাইভিং

কেভ ডাইভিং খেলাটা ঠিক এমন যেখানে আপনাকে পাহাড়ের নিচে অন্ধকার পানির মধ্যে সাঁতার কেটে সামনে আগাতে হবে। অনেকেরই কাছে এটি একটি রোমাঞ্চকর খেলা। চারিদিকে পাহাড়ে ঘেরা ঘুটঘুটে অন্ধকার তারমদ্ধে দিয়ে বন্ধুদের সাথে নিয়ে সাঁতার কেটে এগিয়ে যাওয়া সত্যি চরম এক অনুভুতি। খেলাটি প্রথম শুরু হয়েছিল ১৯৩৬ সালের দিকে অ্যামেরিকাতে। আর এটির জনক জ্যাক শেফার্ড কেভ। তখনকার সময় এই খেলাটি শুধু পর্যটকদের ভেতরে ছিল কিন্তু বর্তমানে কয়েক বছর ধরে এটি সবার কাছে বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। কিন্তু সর্বোপরি এই খেলাটিও কোনরকম বিপদ থেকে দূরে না। কারন এখানে পথভ্রষ্ট হয়ে অনেকেই সমুদ্রের অনেক গভীরে লুকিয়ে থাকা হিংস্র জন্তুর আক্রমণের শিকার হয়। অনেকে আবার লুকানো পাহাড়ের খণ্ডের সাথে ধাক্কা খেয়ে আহত হয়ে থাকেন।

৩. হেলি স্কিং

পৃথিবীর সবচেয়ে ভয়ংকর ৫টি খেলা এর মধ্যে তিন নম্বরে রয়েছে হেলি স্কিয়িং। এটি কিন্তু সাধারণ কোন স্কিয়িং নয়! একটি হেলিকাপ্টার আপনাকে বরফে ধাকা কোন পাহাড়ের চুরাই নিয়ে গেলো তারপর সেখান থেকে নিচে লাফ দিয়ে পাহাড়ের চুরাই নামতে হবে এবং স্কি করতে করতে পাহাড় বেয়ে নিচে নেমে আসতে হবে। কথা গুলো শুনতে খুব মজার মনে হলেও বাস্তবে কিন্তু ঠিক এমন কিছু হয়না। আপনি যদি অভিজ্ঞ না হন তবে আপনার মৃত্যু বা বড় কোন দুর্ঘটনা ঘটবে এটি নিশ্চিত। আপনি যত উঁচু পাহাড় নির্বাচন করতে পারবেন ততবেশি রোমাঞ্চকর পরিস্থিতির স্বাদ নিতে পারবেন। পরিসংখ্যান হিসেব করলে দেখা যাবে যে প্রতি বছরই অনেক হেলি স্কিং ড্রাইভার দের মৃত্যু হয় পাহাড় ধশে পরার কারনে। পাহাড়ের গায়ে যে বরফ থাকে সেটি অনেক সময় আলগা অবস্থাই থাকে ফলে হেলিকাপ্টার থেকে সেটি বোঝা যায়না। অনেকেই না বুঝে ঝাপ দেয় ফলাফল তাদের নির্মম ভাবে বরফের নিচে চাপা পড়তে হয় এবং কপাল খারাপ হলে প্রান হারাতে হয়।

৪. বুল রাইডিং

পাগলা ষাঁড়ের পীঠে বশে তাকে ঘুরিয়ে নিয়ে বেড়ানোর নাম বুল রাইডিং। উত্তেজনা পূর্ণ খেলার মধ্যে এটিকে সবার আগে রাখা হয়। খেলাটির নিয়ম ঠিক এমন যে আপনাকে একটি পাগলা ষাঁড়ের পীঠে বসিয়ে দেয়া হবে। আপনি ষাঁড়ের পীঠে বসা মাত্রই সে লাফালাফি শুরু করবে ও আপনাকে তার ওপর থেকে নিচে নামিয়ে দেবার চেষ্টা করবে। খেলার নিয়ম আনুজায়ি আপনাকে ন্যূনতম ৮ সেকেন্ড ষাঁড়ের পিঠে বসে থাকতে হবে। ৮ সেকেন্ড এর কথা শুনে খুব সহজ মনে হলেও বাস্তবে কিন্তু এতো সোজা না। অনভিজ্ঞ কারো পক্ষে ২-৩ সেকেন্ডের অধিক ষাঁড়ের পিঠে বসে থাকা সম্ভব নয়। আর নিচে পড়ে গেলেই তো শেষ নয়, এরপর আপনার নিজেকে রক্ষা করতে হবে পাগলা ষাঁড়ের হাত থেকে! এমন করতে যেয়ে এখন পর্যন্ত অনেক বুল রাইডার মারাত্মক ভাবে জখম হয়েছে। মৃত্যুর ঘটনাও ঘটেছে অসংখ্যবার।

৫. সার্ফিং

পৃথিবীর সবচেয়ে ভয়ংকর ৫টি খেলা এর মধ্যে এতক্ষন যে খেলাগুলোর কথা বললাম তার প্রায় কোনটাই আমাদের দেশে খেলা হয় না। কিন্তু সার্ফিং খেলাটির সাথে আমরা অনেকেই পরিচিত। বিশেষ করে সাগরের পাশে যাদের বাড়ি, তারা এই খেলাটি ছোট বেলা থেকেই খেলতে খেলতে বড় হয়ে থাকেন। দারুন উত্তেজনা আর রোমাঞ্চে ভরপুর হওয়ার কারণে এই খেলাটি আমাদের প্রায় সবারই অন্যতম একটি পছন্দের খেলা। সত্যি বলতে আমার নিজেরও এই খেলাটি অনেক পছন্দের। সমুদ্রের বড় বড় ঢেউ ওপর দিয়ে নিজের শরীর কে ভাসিয়ে নিয়ে যাওয়া সত্যি অনেক। বহির্বিশ্বে এই খেলাটির অনেক সুনাম বা চাহিদা আছে। অবকাশ যাপন করার জন্য খেলাটি অনেক পরিচিত। সমুদ্রে সৈকতে বেরাতে গেলে সার্ফিং না করে ফিরে আশা মানে আপনার ভ্রমণের সাধ অপরিপূর্ণ থেকে যাওয়া। বর্তমানে সার্ফিং পেশাদার খেলা হিসেবে ধরা হচ্ছে এবং বহির্বিশ্বে অনেক ধরনের টুর্নামেন্টের আয়োজন করা হচ্ছে এই খেলাকে কেন্দ্র করে।

তবে আপনার কাছে এই খেলাটি জতই মজার বা রোমাঞ্চকর মনে হোক না কেন বাস্তবে কিন্তু তা এতো সোজা না। প্রথম কথা আপনি যদি সাঁতার না জানেন তবে ভুল করেও এই খেলাতে অংশ নেওয়ার চেষ্টা করবেন না। এটি খেলতে হলে আপনাকে জানতে হবে ভালো সাঁতার, সেই সাথে আপনাকে ভালো কোন ট্রেইনারের কাছ থেকে প্রশিক্ষণ নিতে হবে। কারন আপনি যখন সমুদ্রের বড় বড় ঢেউয়ের ভেতর দিয়ে সার্ফিং করবেন তখন দুর্ঘটনা বসতো বা কোন কারনে সেই ঢেউ আপনাকে গ্রাশ করেও নিতে পারে। এমন ভয়ংকর পরিস্থিতিতে অনেকেই পরেছে এবং এমনো হয়েছে যে তাঁরা প্রান নিয়ে আর ফিরে আসতে পারিনি।

আরও একটি ভয়ংকর খেলা হচ্ছে উইন্টার সুইমিং বা আইস সুইমিং
———————
সত্যি বলতে কি- এইসব খেলারে ঝুঁকি যতই থাকুক না কেন, উত্তেজনার মাত্রা কোন অংশে কম না। মানুষ স্বভাবগতভাবেই এডভেঞ্চার প্রিয় হয়ে থাকে। তাই অনেক সাবধানবানি শোনা সত্ত্বেও তারা এমন সব বিপদজনক খেলায় অংশ নিয়ে থাকে। বেঁচে থাকার অর্থ কি যদি জীবনটাকে উপভোগ করা নাই গেল? আজকের মত এতটুকুই। আগামীতে আরও কিছু বিপদজনক খেলা নিয়ে হাজির হবো আপনাদের সামনে।

আরও পড়ুনঃ

পৃথিবীর যে পাঁচটি অঞ্চলে এখনও জংলী উপজাতির বসবাস

বাংলাদেশের সেরা ৫টি ভুতুড়ে স্থান

copyright-notice

মন্তব্য লিখুন
SHARE
আবির তপু পেশায় একজন প্যাটার্ন ডিজাইনার। শখের বসে লেখালেখি করেন। তিনি দেশ ও দেশের বাইরের প্রতি মুহূর্তে ঘটে যাওয়া ঘটনার সাথে আপডেট থাকতে ভালবাসেন। থ্রিলার মাস্টার ওয়েব পোর্টালের সাথ জড়িত আছেন ২০১৭ সাল থেকে। পৃথিবীর ইতিহাস থেকে তুলে আনছেন বিচিত্র সব বিষয় । উপস্থাপন করছেন থ্রিলার প্রেমি পাঠকদের কাছে।