প্রাচীন যিশু মূর্তির মুখে আসল দাঁত! মূর্তির মুখে মানুষের দাঁত কীভাবে এলো?

30

মেক্সিকোর এক চার্চে সম্প্রতি অদ্ভুত এক রহস্যের দেখা পাওয়া গেছে। চার্চের প্রাচীন যীশু মুর্তির মুখে যে দাঁতগুলো দেখা যায় তা অবিকল মানুষের আসল দাঁত এর মতোই দেখতে। বিজ্ঞানীদের গবেষণায় আবিষ্কৃত হয়েছে যে মুর্তির মুখের এই দাঁতগুলো আসলে মানুষেরই দাঁত। কিন্তু তিনশো বছর আগের একটা মুর্তিতে মানুষের আসল দাঁত কি করে এলো? চলুন খুঁজে দেখি সে প্রশ্নের উত্তর…

চার্চের অবস্থান

চার্চ হচ্ছে খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বীদের উপসনালয়। বিশ্বের খ্রিষ্টান সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশগুলোতে প্রচুর চার্চ রয়েছে। আপনারা জানেন যে খ্রিষ্টানদের ধর্ম প্রচারকের নাম ছিল- যীশু খ্রিষ্ট। তাই প্রত্যেকটি চার্চে একটি করে যীশু মুর্তি রাখা থাকে। আজ আমরা যে চার্চ নিয়ে কথা বলবো তার অবস্থান মেক্সিকোতে। এই চার্চে একটা ৩০০ বছরের যীশু মুর্তি রাখা আছে। মানুষ এই মূর্তির নাম দিয়েছে ‘লর্ড অফ পেশেন্স’। মুর্তিটি দ্বারা মানুষকে শত কষ্টের মাঝেও ধৈর্য ধরে রাখার শিক্ষা দেওয়া হয়।

ক্ষতবিক্ষত যিশুর এই মূর্তিটির অভিব্যক্তি দেখলে সত্যিই বিস্মিত হতে হয়। মেক্সিকোর এই যিশু-মূর্তির বৈশিষ্ট্য কিন্তু তার নির্মান শৈলিতে নয়। অতীব এক আশ্চর্যের বিষয় লুকিয়ে রয়েছে মূর্তির দাঁতে। উজ্জ্বল এই দাঁতগুলোতে আলো পড়লে আলো প্রতিফলিত হয়। ফলে দাঁতগুলোকে মানুষের আসল দাঁত এর মতোই মনে হয়।

কয়েক বছর আগে রক্ষণাবেক্ষণের প্রয়োজনে মূর্তিটিতে হাত দেওয়া হয়। তখনই বোঝা যায়, মূর্তির দাঁতে কিছু রহস্য রয়েছে। চার্চের নানরা ধারণা করেন যে মূর্তির দাঁতগুলি আসল। অর্থাৎ দাঁতগুলি মানুষের দাঁত। এমন কাণ্ড স্বভাবতই হই চই ফেলে দেয় চারিদিকে। মেক্সিকোর ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অফ অ্যানথ্রোপোলজি অ্যান্ড হিস্ট্রি-র গবেষকরা এসে পরীক্ষা করেন মূর্তিটিকে। এক্স-রে দিয়ে পরীক্ষা করে তাঁরা জানান, সত্যিই এই মূর্তির দাঁতগুলি মানুষেরই আসল দাঁত।

যিশুর মূর্তিতে কীভাবে আসতে পারে মানুষের আসল দাঁত?

প্রশ্ন উঠতে শুরু করে, যিশুর পবিত্র মূর্তিতে কীভাবে আসতে পারে মানুষের আসল দাঁত? উত্তর খুঁজতে শুরু করেন ঐতিহাসিকরা। সেই উত্তর খুজতে গিয়ে তারা একটা বিষয় জানতে পারেন। অষ্টাদশ শতকে খ্রিষ্টান দেশগুলোতে রেওয়াজ ছিল- দেহের কোনও একটা অংশ বা অঙ্গ চার্চকে দান করে যেতে হবে মৃত্যুর পুর্বে। ধারণা করা হয় মেক্সিকোর অনেক মানুষ তাদের দাঁত চার্চে দান করে যায়। তাদের মৃত্যুর পর এই দাঁত নিয়ে যীশু মুর্তির মুখে স্থাপন করা হয়। শুধু দাঁত নয়, সে সময়ে অনেকে চুলও দান করেতেন যীশুমূর্তিতে লাগানোর জন্য।

তবে অনেক বিশেষজ্ঞ এই মত মেনে নেয়নি। তারা বিভ্রান্ত হয়ে গেছে এই প্রশ্নের উত্তর খুজতে খুজতে। তাঁরা জানান যে- দাঁতগুলি রীতিমতো ভাল অবস্থায় রয়েছে। মূর্তির ঠোঁটদু’টি এমনভাবে ফাঁক করা রয়েছে যে, চাইলেই যে কেউ দাঁত দেখতে পাবেনা। খুব ভালো করে তাকালে দাঁতগুলি চোখে পড়বে। তাছাড়া দাঁতগুলো জীবিত ব্যক্তির মুখ থেকে নেওয়া হয়েছে, নাকি মৃত ব্যক্তি থেকে নেওয়া- এই নিয়েও দ্বিমত আছে। মূর্তি থেকে খুলে নিয়ে পরীক্ষা না করলে কিছুতেই বলা সম্ভব নয়, এই দাঁতের মালিক স্ত্রী না পুরুষ। কিন্তু চার্চ কত্রিপক্ষ তাদেরকে মুর্তি থেকে দাঁত খুলে নেওয়ার অনুমতি দেয়নি। ফলে এই রহস্য সম্পর্কে সঠিকভাবে জানা আমাদের পক্ষে সম্ভব নয়! এ বিষয়ে বিবিসির কভারেজটি পড়তে পারেন। অথবা এই নিয়ে আমদের তৈরি ভিডিও প্রতিবেদনটি দেখতে পারেন।

আজকের রহস্য এতটুকুই। আগামীতে নতুন কোন রহস্যময় ঘটনা নিয়ে হাজির হয়ে যাব। ততদিন পর্যন্ত ভালো থাকুন সবাই।

আরও পড়ুন:

নরমুণ্ডু গুহা – যেখানে পাতা আছে মৃত্যুর ফাঁদ!

পৃথিবীর যে পাঁচটি অঞ্চলে এখনও জংলি উপজাতির বসবাস

বিশ্বের সবচেয়ে অদ্ভুত চিড়িয়াখানা – থাইল্যান্ড

মন্তব্য লিখুন
SHARE
ইশতিয়াক রেহমান থ্রিলার মাস্টার ওয়েব পোর্টাল এর স্বপ্নদ্রষ্টাদের মধ্যে একজন। তিনি পড়াশোনা করছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইন্টারন্যাশনাল বিজনেস বিভাগে। একাডেমিক স্টাডির পাশাপাশি তিনি ভালবাসেন নন ফিকশন লেখালেখি করতে। এছাড়াও তিনি ওয়েব ডিজাইন, গ্রাফিক্স ডিজাইন, ভিডিও মেকিং ইত্যাদি কাজেও দক্ষ।