বেগুনকোদর রেলষ্টেশন – রাত বাড়লেই যেখানে শুরু হয় ভুতের উপদ্রব!

302

বলিউডের হরর মুভিগুলোতে প্রায়ই ভুতুড়ে বাস ষ্টেশন কিংবা রেল ষ্টেশন দেখানো হয়ে থাকে। আমাদের কাছে সেগুলোকে অবাস্তব মনে হলেও, অনেক ক্ষেত্রেই এই বিষয়গুলো মূলত বিভিন্ন হন্টেড প্লেস সম্পর্কে লোকমুখে প্রচলিত ঘটনার উপর ভিত্তি করে বানানো হয়ে থাকে। তেমনই এক ভুতুড়ে রেল ষ্টেশন এর গল্প শোনাবো আজ। এটি হচ্ছে পশ্চিম বঙ্গের পুরুলিয়া জেলার বেগুনকোদর রেল ষ্টেশন। স্থানীয় মানুষের কাছে যা ভুত ষ্টেশন নামেই বেশি পরিচিত। এই স্থানটিকে ঘিরে প্রচুর ভুতুড়ে ঘটনার কথা শোনা যায়। এই সকল ঘটনার সত্যতা যাচাই করার তেমন সুযোগ নেই। তবে যা কিছু রটে, তার কিছু তো বটে!!

বেগুনকোদর রেলষ্টেশন

সুবিশাল স্টেশন। পাকা ইমারতের স্টেশন বিল্ডিং, রেল কোয়ার্টার্স। একসময় নাকি স্টেশন লাগোয়া বড় বাজারও ছিল। এখন সে সবই অতীত। গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাসের বুকে কালিমা একে দিয়েছে নানান ভুতুড়ে কর্মকাণ্ড আর ব্যাখ্যাহীন ঘটনা। প্রতিদিন সন্ধ্যের পর অন্ধকারের মধ্যে একাকী দাঁড়িয়ে থাকে ভুতের স্টেশন বেগুনকোদর। ট্রেন আসে ট্রেন যায়, কিন্তু রেল ষ্টেশন হওয়া সত্ত্বেও বেগুনকোদরে কোন ট্রেন থামে না। রেললাইনের ধারে তাই সারা রাত হানাবাড়ির মত পড়ে থাকে পুরুলিয়ার জেলার এই অতি প্রাচীন বেগুনকোদর স্টেশন।

যেভাবে শুরু হলো ভুতুড়ে কর্মকান্ডঃ

প্রায় ৬০ বছর আগে একটা সময় ছিলো যখন বেগুনকোদর ষ্টেশন এলেই থামতো সমস্ত প্যাসেঞ্জার ট্রেন। তারপর হঠাৎ কী সব হয়ে গেল, পরিস্থিতি গেল পাল্টে! মানুষের কাছে ভয়ের কারণ হয়ে দাঁড়ালো বেগুনকোদর। ঘটনাটি ঘটেছিলো ১৯৬০ সালের দিকে। শোনা যায় যে একদিন মধ্যরাতে এখানে স্টেশন মাস্টার ও তাঁর স্ত্রী খুন হন। পরে স্টেশনের পাতকুয়োর মধ্যে থেকে উদ্ধার করা হয় তাদের মৃতদেহ। এবং সেই থেকেই নাকি অশরীরী কার্যকলাপের শুরু।

ভুতুড়ে কর্মকাণ্ড শুরু হতেই রাতারাতি পালিয়ে গেল সব রেলকর্মী। ফলে বন্ধ হয়ে গেল এই ষ্টেশনে ট্রেন থামা। ধীরে ধীরে পরিত্যাক্ত স্থানে পরিণত হল গোটা এলাকা। শুধু মূর্তিমান বিভীষিকার মত দাঁড়িয়ে রইলো বড় পাকা স্টেশন বিল্ডিংটা। স্থানীয়রা বলে থাকেন এখনও সেখানে ভুতুড়ে কর্মকাণ্ডের দেখা মেলে। রাতে নাকি সেখানে খেলা করে নানা রঙের উজ্জ্বল আলো। শোনা যায় অদৃশ্য আত্মাদের ফিসফাস।

স্টেশন মাস্টার খুন হওয়ার সেই ঘটনার প্রায় পঞ্চাশ বছর পরে ২০১০ সালে আবার খুলে দেওয়া হয় বেগুনকোদর স্টেশন। তবে তা শুধু প্যাসেঞ্জার হল্ট হিসেবে। পুরনো স্টেশন বিল্ডিংটাকেই রঙ করে দেওয়া হয় নতুন রুপ। কিন্তু তাতে কি বন্ধ হয়ে যায় ভুতের উপদ্রব? বর্তমান পরিস্থিতি বিচার করলে কিন্তু তা মনে হয় না!

সম্প্রতি একটি এডভেঞ্চার প্রিয় টিম গিয়ে ঘুরে এসেছে বেগুনকোদর ষ্টেশন। তাদের ভাষ্যমতে, এখনও সন্ধ্যার পর স্টেশন বিল্ডিংয়ের ত্রিসীমানায় দেখতে পাওয়া যায় না কোনও গ্রামবাসীকে। বিকেল ৫.৫০ নাগাদ এই স্টেশনে থামে রাঁচি-চন্দ্রপুরা-ধানবাদ প্যাসেঞ্জার। এটাই দিনের শেষ ট্রেন যা এখানে থাকে। এর পর আর কোনও ট্রেনের স্টপেজই দেওয়া হয়নি এখানে। এমনকি এই ষ্টেশনে নেই কোনও রেলের স্থায়ী কর্মী। মোটকথা, সন্ধের পরে আর কেউ আসেন না এখানে।

যদি ভুতুড়ে ঘটনা বন্ধই হয়ে গিয়ে থাকে তাহলে কেন আজও মানুষ এই ষ্টেশনটি এড়িয়ে চলে? আজও প্রতিদিন সন্ধ্যে নামতেই শুনশান হয়ে যায় পুরুলিয়া জেলার সীমান্তবর্তী বেগুনকোদর স্টেশন। একটাও আলো জ্বলে না প্লাটফর্মে। দেখা মেলেনা এক জন যাত্রীরও। শুধু আপ ও ডাউন লাইন দিয়ে একের পর এক ট্রেন চলে যায়। তাদের হর্ন ছিন্ন ভিন্ন করে দেয় স্টেশনের নিস্তব্ধতা।

বেগুনকোদর এর ঘটনার উপর ভিডিও প্রতিবেদন দেখুন আমাদের ইউটিউব চ্যানেলে

আরও পড়ুন

কলকাতার রহস্যময় রাইটার্স বিল্ডিং

পুতুল বাড়ি – কলকাতার সবচেয়ে রহস্যময় ভুতুড়ে স্থান

হায়দ্রাবাদের ভুতুড়ে স্থান – রামোজি ফিল্মসিটি

মন্তব্য লিখুন
SHARE
পড়াশোনা করছেন কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগে। পাশাপাশি সাংবাদিক এবং কলামিস্ট হিসেবে কর্মরত রয়েছেন। তিনি থ্রিলার মাস্টারের মুল কন্ট্রিবিউটরদের মধ্যে একজন। ভাল লাগে রহস্যের হাতছানি। তাইতো থ্রিলারপ্রেমি পাঠকের জন্য তুলে আনছেন পৃথিবীর আনাচে কানাচে ঘটে যাওয়া নানান ব্যাখ্যাহীন ও রহস্যময় ঘটনাগুলো।