বই রিভিউঃ ব্লাডস্টোন

414

ব্লাডস্টোন বইটিকে কোন বিশেষণে বিশেষায়িত করব তা বুঝতে পারছি না! বইটির শুরু থেকে শেষ অবধি দারুণ এক ভালোলাগার অনুভূতি গ্রাস করে ছিল আমাকে।

মানুষের জীবনে সৃষ্টিকর্তা প্রদত্ত দুর্লভ একটি উপহার হচ্ছে ভালবাসা। এই ভালবাসার জন্য মানুষ করতে পারে না, এমন কোন কাজ নেই। তারা চাইলে অনেক অসম্ভবকেও সম্ভব করে তোলে। প্রিয় স্ত্রীর মনের বিষণ্ণতা দূর করার জন্য এমনই এক অসম্ভবকে বাস্তবে রুপদান করেন প্রাচীন ব্যাবিলন সম্রাট নেবুচাদনেজার। তিনি তার প্রিয়তমা অ্যামিতিস এর জন্য নির্মাণ করেন এক ঝুলন্ত উদ্দান, যা আজও পৃথিবীর ইতিহাসে এক বিখ্যাত রহস্য হয়ে আছে। রুক্ষ মরুর বুকে অ্যামিতিসের বাবার মিডিয়ান রাজ্যের মত একটি পরিবেশ স্থাপন করা হয় এই ব্যবিলনের ঝুলন্ত উদ্যানে। কিন্তু এই ভালবাসার বহিঃপ্রকাশই করতে গিয়ে রাজা নেবুচাদনেজার এক ভয়ংকর সিধান্ত নেন। অভিশাপ এ পরিণত হয় তার ভালবাসার নিদর্শন। মূলত এখান থেকেই উৎপত্তি হয় ব্লাডস্টোনের।

ব্লাডস্টোনঃ কাহিনী সংক্ষেপ

বাংলাদেশের একটি পাঁচ তারকা হোটেলে আয়োজিত একটি প্রদর্শনী থেকে চুরি হয়ে যায় ব্লাডস্টোন। এখান থেকেই মূলত উপন্যাসটি শুরু হয়। চোর চুরি করে যাওয়ার সময় চোর ছোট্ট একটা চিরকুট ফেলে গেছে, যাতে লেখা- “অ্যামিতিস, তোমাকে ভালবাসি”। কিন্তু চুরি করার সময়টুকুর সব কথা প্রত্যক্ষদর্শীদের কেউই কিছুই মনে করতে পারছে না। ঘটনাটি তদন্তের ভার পড়ে ডিবি ইন্সপেক্টর মনসুর হালিমের উপর। তিনি ঘটনার কুল কিনারা করতে না পেরে শরণাপন্ন হলেন ইতিহাসের গবেষক ড. রুদ্র রাশেদের। অনেক গুলো প্রশ্ন এসে দাঁড়ায় সম্মুখে।

  • হাজার বছর আগে সহস্র মানুষের রক্তে উৎপন্ন হওয়া অভিশপ্ত ভালবাসার প্রতীক ব্লাডস্টোন কীভাবে বাংলাদেশ এ আসে?
  • অন্যদিকে চন্দিক্যান রাজ্যের পরাক্রমশালী রাজা প্রতাপাদিত্যের মেয়ে রাজকুমারি অরুনাবতী ও একই রাজ্যের সেনাপতি মাহতাব খান একজন অপরজনকে ভালবাসে। কিন্তু তাদের ভালবাসার নীড়েও নেমে আসে কালো মেঘের অভিসম্পাত। এখানেও কি লুকিয়ে আছে ব্লাডস্টোনের অভিশাপ? তাদের জীবনে এমন কি ঘটেছিল যে আলাদা হতে হল দুটি ভালবাসার মানুষকে?
  • এছাড়া সুরের জাদুকর নিকোলা পাগানিনি কিসের মোহে তার জীবন নষ্ট করতে চেয়েছিলেন? কেনইবা তার প্রিয় ছাত্র ক্যামিলো সিভরির ছেলে গঞ্জালো সিভরি আত্মহত্যা করল যে কিনা তার সময়ের জীবন্ত কিংবদন্তী ছিল।

এছাড়া বইটিতে আরও আছে পাগানিনির ২৪ ক্যাপ্রাইস আবিষ্কারের বিস্ময়কর কাহিনী, পারস্য সম্রাট সাইরাসের ব্যবিলন দখলের কাহিনী, সম্রাট অ্যালেকজান্ডারের বিশ্বজয়ের ও তার মৃত্যুর করুন উপাখ্যান।

আমার মতামত

বইটি পড়তে গিয়ে বুঝতে পেরেছি লেখক অনেক পরিশ্রম করেছেন। ইতিহাসের অনেক দিক তুলে ধরেছেন। বইটিতে লেখক অনেক টুইস্ট রেখেছিলেন। এছাড়া মনসুর হালিম আর ড. রুদ্র রাশেদের কথোপকথন ভাল লেগেছে। বইয়ের কভার খুব ভাল লেগেছে আর পৃষ্ঠাগুলোও ভাল ছিল। তবে কিছু কিছু জায়গায় বানান কিছু ভুল ছিল তবে সহনীয় পর্যায়ে ছিল। সর্বোপরি, ব্লাডস্টোন খুবই উপভোগ্য একটি মৌলিক থ্রিলার। ইতিহাসপ্রেমীদের জন্য সুখপাঠ্য। বাংলাদেশের থ্রিলার সাহিত্য যে দিনদিন সমৃদ্ধ হচ্ছে ব্লাডস্টোন তার প্রমাণ। লেখকের কাছ থেকে ভবিষ্যতে আরো ভাল মৌলিক থ্রিলার আশা করি।

বইটি অনলাইনে কিনতে পারবেন রকমারি ডট কম থেকে।

আমার লেখা আরও একটি চমৎকার বইয়ের রিভিউ পড়ুনঃ বই রিভিউঃ ১১.২২.৬৩ – স্টিফেন কিং

copyright-notice

মন্তব্য লিখুন
SHARE
ইশতিয়াক রেহমান থ্রিলার মাস্টার ওয়েব পোর্টাল এর স্বপ্নদ্রষ্টাদের মধ্যে একজন। তিনি পড়াশোনা করছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইন্টারন্যাশনাল বিজনেস বিভাগে। একাডেমিক স্টাডির পাশাপাশি তিনি ভালবাসেন নন ফিকশন লেখালেখি করতে। এছাড়াও তিনি ওয়েব ডিজাইন, গ্রাফিক্স ডিজাইন, ভিডিও মেকিং ইত্যাদি কাজেও দক্ষ।