মেক্সিকোর রহস্যময় পুতুলের দ্বীপ

496

মনে করুণ আপনি একটি দ্বীপে গিয়েছেন বেড়াতে। সেখান গাছে গাছে অসংখ্য পুতুল ঝুলতে দেখছেন। সাধারণ কোন পুতুল নয়। হাত-পা ছেড়া, গলাকাঁটা, বীভৎস সব পুতুলের দেখা পাচ্ছেন চতুর্দিকে? কেমন অনুভূতি হবে আপনার। কেউ না বললেও বোঝা যাচ্ছে যে এমন সিচুয়েশনে আপনার অভিজ্ঞতা মোটেও সুখকর হবে না। ঠিক এই অভিজ্ঞতার মুখেই পড়বেন যদি আপনি মেক্সিকোর রহস্যময় পুতুলের দ্বীপ এ বেড়াতে যান!

পুতুলের দ্বীপ এর অবস্থানঃ

মেক্সিকোর রাজধানী মেক্সিকো সিটি থেকে ১৭-১৮ মাইল দক্ষিণে গেলে জোকিমিলকো নামের একটি জেলায় গিয়ে উপস্থিত হবেন। এই জেলাতেই অবস্থিত পুতুলের দ্বীপ। এই দ্বীপজুড়ে রয়েছে শুধু পুতুল আর পুতুল। যে সে পুতুল নয়। ভতংকর আর বিকৃত ধরনের পুতুল। কোনটির হাত পা নেই, কোনটির আবার মাথা নেই। দেখলে মনে হবে যেন টেনে ছিরে ফেলা হয়েছে মাথা। শুধু যে দেখতে ভয়ংকর, তা কিন্তু নয়! এই দ্বীপকে ঘিরে অনেকবার ঘটেছেন ভয়ংকর সব ঘটনা। এসব ঘটনা শুনলে ভয়ে আপনার গা শিউরে উঠবে।

পুতুলের দ্বীপ এর ভয়ংকর ইতিহাসঃ

প্রায় আশি বছর আগের কথা। তখন এই দ্বীপে মানুষ বাস করতো, যদিও তখন থেকেই গাছে ঢাকা এই দ্বীপ ছিল শীতল আর অন্ধকারময়। এক সন্ধায় তিনজন মেক্সিকান শিশু পুতুলের বিয়ে দিচ্ছিল এখানে। খেলতে খেলতেই তিনজনের একজন নিখোঁজ! অনেক খোজার পর দ্বীপের পাশের একটি খালে পাওয়া গেল তার মৃতদেহ। তারপর থেকে ভয়ে আর কেউ ওই দ্বীপের ত্রি-সীমানা মাড়ায়নি।

এই ঘটনার ৩০ বছর পর ১৯৫০ সালের দিকে ডন জুলিয়ান সানতানা নামের এক যাজক এই দ্বিপটিতে আসেন নির্জনে তপস্যা করার জন্য। তার বর্ণনায় ফুটে ওঠে এই দ্বীপের রহস্যময় ঘটনাগুলো। জুলিয়ানের ভাষ্য অনুযায়ী, দ্বীপটিতে আশ্রম গড়ে তোলার পর থেকে তার সঙ্গে মৃত শিশুটির আত্মার প্রায়ই কথা বলতো। শিশুটির আত্মা জুলিয়ানের কাছে পুতুল এনে দেয়ার বায়না করতো। তবে যেমন তেমন পুতুল নয়। বীভৎস সব পুতুল চেয়ে বসে শিশুটির আত্মা। হাত পা মাথা বিহীন পুতুল যেগুলো দেখলে মনে হবে তারা মানুষের নির্যাতনে প্রাণ হারিয়েছে।

এর পর শিশুটির আত্মাকে খুশি করার জন্য জুলিয়ান তার আশ্রমে চাষ করা সবজির বিনিময়ে মানুষের কাছ থেকে নষ্ট পুতুল সংগ্রহ করতে থাকেন। জঙ্গলে এনে গাছের ডালের সঙ্গে এগুলো বেঁধে রাখতেন তিনি। এমনিভাবে হাজার হাজার কুড়িয়ে পাওয়া কিংবা কিনে আনা পুতুল দিয়েই জুলিয়ান গড়ে তোলেন মৃত পুতুলের দ্বীপ।

এরপর একদিন দিন জুলিয়ান তার ভাইয়ের ছেলেকে নিয়ে সেই অপয়া খালটিতে মাছ ধরছিলেন যেখানে লাশ পাওয়া গিয়েছিল মৃত শিশুটির। সে সময় জুলিয়ান হঠাত খেয়াল করলেন পানির নিচ থেকে তাকে কারা যেন ডাকছে! তাদের কাছে যাওয়ার জন্য কেউ অনুরোধ করছে। সব ঘটনা তিনি তার ভাইয়ের ছেলেকে বলার পর তারা মাছ ধরা বন্ধ করে চলে আসে সেখান থেকে কিন্তু এর কিছুদিন পরই ওই খাল থেকে পাওয়া যায় জুলিয়ানের নিথর দেহ। দ্বীপটিতে এখনও মৃত শিশুটির আত্মা ঘোরাঘুরি করে বলে ধারনা করা হয়। মাঝে মাঝে শোনা যায় ভয়ংকর সব আওয়াজ।

কেন পুতুলের দ্বীপ এ কেউ যেতে চায় না?

ভুতুরে সব ঘটনার কারনে ১৯৯০ সালের দিকে এসে মেক্সিকান সরকার এই দ্বীপকে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করে পর্যটন অঞ্চল বানানোর জন্য দ্বিপটিকে ন্যাশনাল হেরিটেজ হিসেবে ঘোষণা করে। কিন্তু পর্যটকরা ভয়ংকর এসব পুতুল দেখে মনে হয় রাতের ঘুম হারাম করতে চান না। তাই তারা কখনও আসেন না এখানে। যেচে এসে ভয় পাওয়ার মানুষ খুব কমই দেখা যায়। তাছাড়া কেই বা চায় রাতে ভয়ংকর দুঃস্বপ্ন দেখতে। তাই এই দ্বীপে একেক মৌসুমে বিশ থেকে ত্রিশজনের বেশি পর্যটক কখনোই দেখা যায়না।

copyright-notice

মন্তব্য লিখুন
SHARE
ইশতিয়াক রেহমান থ্রিলার মাস্টার ওয়েব পোর্টাল এর স্বপ্নদ্রষ্টাদের মধ্যে একজন। তিনি পড়াশোনা করছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইন্টারন্যাশনাল বিজনেস বিভাগে। একাডেমিক স্টাডির পাশাপাশি তিনি ভালবাসেন নন ফিকশন লেখালেখি করতে। এছাড়াও তিনি ওয়েব ডিজাইন, গ্রাফিক্স ডিজাইন, ভিডিও মেকিং ইত্যাদি কাজেও দক্ষ।