কাতারের রহস্যময় ফিল্ম সিটি

188

ভাবুন, আপনি হাঁটছেন মরুভূমির বুকে। খুব পিপাসা পেয়েছে। কোথাও এক ফোঁটা পানি নেই। আপনি হাঁটছেন তো হাঁটছেন… এই হাটার যেন কোন শেষ নেই। খুব কাহিল হয়ে একটু খানি ছায়ার মধ্যে বসে পড়তে ইচ্ছে করছে, ঠিক তখনই হঠাৎ চোখের সামনে দেখতে পেলেন ছোট্ট একটা মরুদ্যান। সেখানে ছোট ছোট ঘরবাড়ি, রাস্তা আর সমস্ত জায়গাটি পাচিল দিয়ে ঘেরা। কেমন লাগবে তখন? নিশ্চয়ই দৌড়ে যেতে ইচ্ছে করবে সেদিকে। কিন্তু সাবধান! এটা কিন্তু যেমন তেমন মরুদ্যান নাও হতে পারে! হতে পারে যে এটা কোন রহস্যময় যায়গা, যেখানে কেউ বাস করে না! হয়ত কেউ ওঁত পেতে আছে, আপনি ভেতরে ঢুকলে আপনার উপর চড়াও হবে! কাতারের রহস্যময় ফিল্ম সিটি হচ্ছে এমনই এক যায়গা!

আপনার হয়ত ভাবতে অবাক লাগছে। ভাবছেন এমন কোন যায়গা থাকার উপায় নেই। সেক্ষেত্রে আপনার ধারণা সম্পূর্ণ ভুল। ঠিক এমনই এক রহস্যময় মরুদ্যান রয়েছে কাতারে। যার নাম কাতার ফিল্ম সিটি। আজ আমরা এই রহস্যময় ফিল্ম সিটির পেছনের কাহিনী জানব। থ্রিলার মাস্টারের সাথেই থাকুন।

কাতারের রহস্যময় ফিল্ম সিটি

কাতারের জেকরিট পেনিনসুলা নামক মরুভূমির বুকে এই অদ্ভুত স্থানটি দেখতে পাওয়া যায়। দূর থেকে দেখে মনে হতে পারে প্রাচীন আমলের আরব্য গ্রাম। যায়গাটি ছোট একটা মরুদ্দ্যান। মরুভূমির মাঝে ছোট্ট এই যায়গাটুকু সম্পূর্ণ নির্জন। বেশ কিছু বাড়ি ঘর থাকলেও কোন মানুষ বাস করেনা এখানে। দেখে মনে হয় যেন কোন মুভির শুটিং এর জন্য সেট ফেলা হয়েছে। তাই মানুষ এর নাম দিয়েছে ফিল্ম সিটি।

কাতারের রহস্যময় ফিল্ম সিটি বাস্তবিক অর্থে এক দারুণ রহস্যময় যায়গা। এখানে ভ্রমণে গেলে মনে হবে বুঝি কোন ওয়েস্টার্ন বই কিংবা মুভির দৃশ্যের মাঝে ঢুকে গেছি আমরা। ফিল্ম সিটির ভেতরে ঢুকলে মনে হয় বুঝি কোন নির্জন ঘোস্ট টাউন বা ভুতের শহরে পা রেখেছি। সারি সারি ঘর বাড়ি, যেখানে কেউ থাকে না। সুন্দর করে বানানো রাস্তা, মসজিদ, মিনার রয়েছে। এছাড়াও এখানে আছে বেশ কয়েকটি নারকেল গাছ। সমস্ত যায়গাটা সুন্দর পাচিল দিয়ে ঘিরে রাখা হয়েছে। ছোট্ট এই স্থানের সব যায়গায় আপনি মধ্যযুগের আরব্য স্থাপত্যশিল্পের ছোঁয়া লক্ষ করবেন।

কাতারের ফিল্ম সিটির মেইজের মত ছোট ছোট রাস্তা গুলো দিয়ে হাটার সময় মনে হবে বুঝি সামনেই ফাঁদ পাতা আছে। পাজল সমাধান করতে পারলেই কেবল পার পাওয়া যাবে এই ফাঁদের হাত থেকে! আপনারা কেউ যদি প্রিন্স অফ পার্সিয়া কিংবা টম রাইডার ভিডিও গেইম খেলে থাকেন, তাহলে এই যায়গাটা আসলে কেমন সে সম্পর্কে ভাল আইডিয়া পাবেন। সারাক্ষন এক গা ছমছমে অনুভুতি আর অদৃশ্য কোন শত্রুর আগমনের ভয় গ্রাস করে রাখবে আপনাকে। কিন্তু প্রশ্ন হল, এমন একটি যায়গা কে বা কারা তৈরি করল? আর কেনই বা ফেলে রেখেছে অহেতুক।

কেন বানানো হয়েছে এই ফিল্ম সিটি?

অনেকেই ধারণা করেন কাতারের এই ফিল্ম সিটি বানানো হয়েছে টুরিস্ট আকর্ষণ করার জন্য। কিন্তু ব্যাপারটা মোটেও তেমন কিছু নয়! মজার ব্যাপার হচ্ছে ফিল্ম সিটি টুরিস্ট আসার জন্য বানানো হয়নি। এমনকি কাতারের সরকার টুরিস্টদের এখানে যেতে উৎসাহী করেন না। কিন্তু কিছু কিছু এডভেঞ্চার প্রিয় টুরিস্ট প্রায়ই ছুটে যান অদ্ভুত এই যায়গা ভ্রমণ করার জন্য। বেশিরভাগ মানুষের ধারণা কোন হলিউডের বিগ বাজেটের মুভির শুটিং করার জন্য যায়গাটা নির্মাণ করা হয়েছে। কিন্তু শুটিং সেট ফেলা হলেও, সেই শুটিং কখনো করা হয়নি। হয়ত আগামিতে শুটিং করা হবে, সেই অপেক্ষায় পড়ে আছে নির্জন ফিল্ম সিটি। আবার অনেকেই মনে করেন এর সাথে জড়িয়ে আছে ২০২২ বিশ্বকাপ। আপনারা অনেকেই হয়ত জানেন ২০২২ সালে ফিফা বিশ্বকাপ অনুষ্ঠিত হবে কাতারে – সেই উপলক্ষে আগে থেকেই দর্শনীয় যায়গা দিয়ে সাজানো হচ্ছে কাতার। এই ফিল্ম সিটি তারই অংশ। হতে পারে যে বিশ্বকাপের থিম সং এর শুটিং হবে এখানে।

তবে বানানোর উদ্দেশ্য যাই হোক না কেন, দর্শনার্থীদের জন্য এটা দারুণ এক রোমাঞ্চকর যায়গা। প্রতিবছন কাতারে বেড়াতে যাওয়া টুরিস্টরা অন্তত একবার হলেও চেষ্টা করেন ফিল্ম সিটি থেকে ঘুরে আসার জন্য। সারা বছর নির্জন ভুতের শহরের মত পড়ে থাকলেও অন্তত এই সময় সরব হয়ে ওঠে কাতারের ফিল্ম সিটি।

আরও পড়ুনঃ

বুর্জ খলিফা – বিশ্বের সবচেয়ে উঁচু ভবন নির্মাণের অজানা ইতিহাস।

কুয়েতের বিখ্যাত আয়নাঘর এর উপর সচিত্র প্রতিবেদন

copyright-notice

মন্তব্য লিখুন