আগুন কী – আগুন আবিষ্কারের ইতিহাস

92

বলুন তো, আগুন কী? এটা কি তরল, কঠিন, নাকি বায়বীয় পদার্থ?

জানি অনেকেই এই প্রশ্নের উত্তর দিতে পারবে না! তাই আজকের আর্টিকেলে আমরা আগুন কী সেই সম্পর্কে কিছু গুরুত্বপূর্ন বিষয় তুলে ধরবো। প্রথমত আমরা আগুন আবিস্কারের ইতিহাসটুকু জানবো। তারপর আমরা জানার চেষ্টা করবো আগুন আসলে কি, কীভাবে আগুন সৃষ্টি হয় এবং কোন বস্তু আগুনে কীভাবে পোড়ে।মনে রাখবেন, সভ্যতার শুরু হয়েছিলো এই আগুন জ্বালানোর মাধ্যমেই! সহস্র বছর আগে আমাদের পূর্বপুরুষেরা আগুন আবিষ্কার করেছিলেন বলেই আজ আমরা এই বিলাসিতাপূর্ণ আধুনিক যুগে বসবাস করতে পারছি। কিন্তু এই আগুন সম্পর্কে আমাদের ধারণা কতটুকু আছে?

আগুন কী?

প্রাচীন গ্রীক অ্যালকেমিস্টরা আগুনকে একটি মৌল পদার্থ ভাবতো। আমাদের আশে পাশে অনেককেই দেখবেন যারা ভাবে আগুন একটি মৌলিক পদার্থ। কিন্তু বাস্তবিক অর্থে, আগুন হলো উত্তপ্ত গ্যাসের মিশ্রণ। এটি সৃষ্টি হয় রাসায়নিক বিক্রিয়ার ফলে। বাতাসে অক্সিজেনের উপস্থিতিতে কোন জ্বালানী বস্তুত মধ্যে তাপ সঞ্চালন করলে এক ধরণের রাসায়নিক বিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়, জার ফলে আগুন জ্বলে ওঠে।

কি, বুঝতে কষ্ট হচ্ছে? কোন সমস্যা নেই। আমি ব্যাপারটা সহজ করে বুঝিয়ে দিচ্ছি…

আগুন সৃষ্টি হয়ার জন্য মূলত তিনটি জিনিসের প্রয়োজন হয়। প্রথমত- কিছু জ্বালানী পদার্থ, অর্থাৎ সহজে আগুনে পোড়ে এমন কিছু লাগবে। যেমনঃ শুকনো পাতা, শুকনো গাছের ডাল, কাঠি, কাগজ, কাঠ ইত্যাদি। দ্বিতীয়ত দরকার হবে জারক পদার্থ বা অক্সিজেন। ছোটবেলায় বইতে নিশ্চয়ই পড়েছেন যে অক্সিজেন ছাড়া আগুন জ্বলে না। কারন বাতাসে যে অক্সিজেন আছে, তা আগুন জ্বালানোর ক্ষেত্রে জারক হিসেবে কাজ করে। তৃতীয়ত দরকার তাপ। শুকনো পাতা, কাগজ এর গায়ে প্রচন্ড তাপ সৃষ্টি করতে পারলে তাতে আগুন ধরে ওঠে। এ কারনেই দুইটা পাথর কোন শুকনো বস্তুর সামনে কিছুক্ষন ঘষাঘষির করলে আগুন ধরে ওঠে। এ সময় দুটো পাথরের ঘর্ষনের ফলে প্রচুর তাপ সৃষ্টি হয়। বাতাসে অক্সিজেনের উপস্থিতির কারনে সেই তাপ থেকে শুকনো বস্তুর গায়ে আগুন ধরে। ম্যাচের কাঠিতে আগুন ধরার প্রক্রিয়াও অনেকটা একই। ম্যাচের বাক্সের গায়ে যে কালো ও খসখসে অংশ থাকে তাতে ম্যাচের কাঠির বারুদ দ্বারা ঘর্ষন করলেই তাপ সৃষ্টি হয়। ফলে কাঠিতে আগুন ধরে।

তবে আপনি যদি এমন কোন স্থানে যান যেখানে অক্সিজেন নেই, সেখানে আগুন জ্বালানো সম্ভব নয়। এর পরীক্ষা আপনারা নিজেই করে দেখতে পারেন। প্রথমে একটা মোমবাতিতে আগুন ধরান। এবার একটা কাচের গ্লাস দিয়ে মোমবাতিটি ঢেকে দিন। দেখবেন গ্লাসের ভেতর যতক্ষণ অক্সিজেন আছে, ততক্ষণ মোমবাতি জ্বলবে। অক্সিজেন ফুরিয়ে যেতেই বাতিটি নিভে যাবে! অর্থাৎ, আগুন শুধু পৃথিবীতেই জ্বালানো সম্ভব! আপনি চাঁদে কিংবা মঙ্গল গ্রহে গিয়ে যতোই আগুন জ্বালানোর চেষ্টা করুন না কেন, কিছুতেই আপনার পক্ষে আগুন জ্বালানো সম্ভব হবে না!

আশা করি এবার আগুন কী তা আপনাদের কাছে ক্লিয়ার হয়েছে। ক্লিয়ার না হলে আমাদের আগুন নিয়ে তৈরি ভিডিও প্রতিবেদনটি দেখতে পারেন। আজ এ পর্যন্তই, আগামীতে নতুন কোন টপিক নিয়ে আপনাদের সামনে হাজির হয়ে যাবো। সেই পর্যন্ত ভাল থাকুন সবাই।

আরও পড়ুন:

পৃথিবীর যে স্থান থেকে তিনটি সূর্য দেখা যায় – সান ডগস বা দুটি নকল সূর্য

বিস্ময়কর জীবন্ত পাথর যে পাথর সমুদ্র উপকুলে দৌড়ে বেড়ায়

নরকের দরজা খুলে আছে পৃথিবীর বুকে! অবিশ্বাস্য হলেও সত্যি!

মন্তব্য লিখুন
SHARE
ইশতিয়াক রেহমান থ্রিলার মাস্টার ওয়েব পোর্টাল এর স্বপ্নদ্রষ্টাদের মধ্যে একজন। তিনি পড়াশোনা করছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইন্টারন্যাশনাল বিজনেস বিভাগে। একাডেমিক স্টাডির পাশাপাশি তিনি ভালবাসেন নন ফিকশন লেখালেখি করতে। এছাড়াও তিনি ওয়েব ডিজাইন, গ্রাফিক্স ডিজাইন, ভিডিও মেকিং ইত্যাদি কাজেও দক্ষ।