গদ্রবঙ্গা – সাঁওতাল দের পালিত এক ভয়ংকর অপদেবতা

3780

গদ্রবঙ্গা – এক ভয়ংকর অপদেবতা

বাংলাদেশ ও ভারতের বিভিন্ন স্থানে সাঁওতাল নামক এক আদিবাসী জনগোষ্ঠী বসবাস করে। এরা মূলত অস্ট্রিক ভাষাগোষ্ঠীর মানুষ। এদের পূর্ব পুরুষেরা ভারত থেকে প্রশান্ত মহাসাগরের ইস্টার দ্বীপ পর্যন্ত বিস্তৃত অঞ্চলে বসবার করতো। এদের প্রায় সবারই চেহারা একই রকম। নাক হয় চওড়া ও খানিকটা চেপ্টা ধরনের, গায়ের রং হয় কালো এবং মাথার চুল খানিকটা কোকড়া, ঢেউ খেলানো মতো হয়ে থাকে। এখন থেকে আনুমানিক ৩০,০০০ বছর আগে তারা ভারত থেকে সরে অস্ট্রোলিয়া চলে যায়। পরে সেখান থেকেই পুনরায় বাংলাদেশ এবং ভারতের কিছু অংশে চলে আসে। এদেরকেই বলা হয় সাঁওতাল। আজ এদের পালিত গদ্রবঙ্গা নামে এক দেবতা সম্পর্কে জানবো আমরা।

সাঁওতালদের সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে রোর বাংলার আর্টিকেলটি পড়তে পারেন

গদ্রবঙ্গা যেভাবে এলো:

সাঁওতাল উপজাতিরা অনেক ধরণের দেব-দেবীর পুজা করে থাকে। দেব-দেবির নাম শুনলেই সবচেয়ে উত্তম চরিত্রের কোনো অবয়ব আমাদের মাথায় আসে। তবে সাঁওতালরা যাদের পুজা করে, তাদের সবাই কিন্তু ভালো নয়! এর মধ্যে কিছু কিছু দেবতা আছে যারা মূলত অপদেবতা। এমনই এক ধরনের অপদেবতার নাম হচ্ছে “গদ্রবঙ্গা”। অনেকেই একে গুদ্রা বোংগা, কেউ কেউ আবার কুদরা বঙ্গা বলে থাকে।

গদ্রবঙ্গার মূর্তি মাটি দিয়ে তৈরি হয়না। এর প্রতিবিম্ব হিসেবে ব্যবহার করে বিশেষ ধরনের হাতে বানানো পুতুল। পুতুলগুলো সাইজে ২-৩ ফিটের বেশি হয় না। এদের চেহারাও হয় ঠিক যেন ছোট বাচ্চাদের মতো। বিভিন্ন সাঁওতাল পরিবার এই পুতুলগুলো অনেক যত্নে লালন করে।

গদ্র বঙ্গা সম্পর্কে প্রচলিত বিশ্বাস:

সাঁওতালদের মধ্যে অনেকেই বিশ্বাস করে গদ্রবঙ্গা খুশি হলে তাদের পরিবারের ধন-দৌলত বাড়িয়ে দেবে। অতীতে নাকি যারাই এই দেবতার পুজা এবং লালন-পালন করেছেন, তারাই সফল এবং অনেক ধনী হয়েছে।

আবার অনেক সাঁওতালরা বিশ্বাস করে থাকেন যে এইসব দেবতারা অন্য বাড়িঘর থেকে স্বর্ণ চুরি করে তা নিজ পালিত ঘরের মালিককে দেয়।

তবে এত সহজেই যে তারা মালিককে ধনী করে দেন তা কিন্তু নয়। এর বিনিময়ে তারা যা দাবি করে তা খুবই ভয়ঙ্কর। স্বর্ণ দেয়ার বদলে এইসব অপদেবতারা যে বাড়িতে পালিত হয়, সেই বাড়ির মালিকের ছোট ছোট সন্তানগুলোকে চায়। তারা এইসব ছোট ছেলেদেরকে মেরে ফেলে এবং তাদের আত্মার শক্তি শুষে নিয়ে নিজেরা শক্তিশালী হয়। আর বাড়ির মালিক যদি তাদের এই চাহিদা পূরণ করতে না পারে, তাহলে “গদ্রবঙ্গা” রা খুব রেখে যায় এবং নানান উপায়ে ক্ষতি করে ঐ পরিবারকে ধ্বংস করে দেয়। এসব জানার পরও এখনো সাঁওতাল অনেক পরিবারই ধনী হবার লোভে এইসব অপদেবতা পালন করে আসছে।

তবে সাঁওতালদের মধ্যে অনেক শিক্ষিত মানুষেরা বর্তমানে মনে করে থাকেন এই বিষয়টা এক প্রকার কুসংস্থার। গদ্রবঙ্গা নামক এই দেবতার কোনো ক্ষমতা নেই মানুষকে ধনী করার কিংবা তাদের সন্তানের আত্মা শুষে নেওয়ার।

তবে এটা সত্যি যে এ পর্যন্ত গদ্রবঙ্গার পুজা করা কিছু কিছু সাঁওতাল পরিবার যে সত্যিই ধনী হয়ে গেছে! এই ঘটনার কি ব্যাখ্যা দেবেন? সম্পূর্ণ কাকতালীয়? এই উত্তর আমাদের কারোই জানা নেই।

বাংলাদেশের বিভিন্ন ভুতুড়ে স্থানগুলো সম্পর্কে জানার জন্য পড়ুনঃ

বাংলাদেশের সেরা ৫টি ভুতুড়ে স্থান

গানস অফ বরিশাল

copyright-notice

মন্তব্য লিখুন