রাজস্থানের ভুতুড়ে শহর কুলধারা

583

কেমন আছেন থ্রিলার ও রহস্যপ্রেমী বন্ধুরা? থ্রিলার মাস্টার এর পক্ষ থেকে জানাই স্বাগতম। বরাবরের মত আজও আমরা হাজির হয়ে গিয়েছি অদ্ভুত এক রহস্যময় ঘটনা নিয়ে। আমাদের আজকের বিষয় ভারতের রাজস্থান রাজ্যের অন্তর্গত ভুতুড়ে শহর কুলধারা …

রাজস্থানের ভুতুড়ে শহর কুলধারা

ভারতীয় উপমহাদেশের জীবনযাত্রা, সংস্কৃতি আর ঐতিহ্যের কেন্দ্র ভাবা হতো রাজস্থানকে। সমগ্র ভারতের সংস্কৃতির সংমিশ্রণ হয়েছে এখানে। তাই তো প্রতি বছর অসংখ্য পর্যটকের আনাগোনা লক্ষ করা যায় এখানে। কিন্তু এসব পর্যটকের আগ্রহের কেন্দ্র বিন্দু থাকে মূলত রাজস্থানের ভুতুড়ে শহর কুলধারা। এই রাজ্যের জয়সলমীর অঞ্চল থেকে একটু দূরে পরিত্যক্ত ছোট্ট শহর এর নাম কুলধারা। আবার অনেকেই একে ভুতুড়ে গ্রাম বলে থাকেন। কথিত আছে যে অতীতে এই শহরে একা ভ্রমণে যারা গেছে তাদের কেউ প্রান নিয়ে ফিরতে পারেনি! এখনও এখানে অদ্ভুত সব কান্ড ঘটে বলে অনেক মানুষ বিশ্বাস করেন।

কীভাবে যাবেন কুলধারা?

জয়সলমীর থেকে থর মরুভূমির দিকে মাত্র ১৫ কিলোমিটার এগোলেই হদিস মিলবে এই শহরের। এক সময় এই শহরে অনেক লোকের বাস ছিল। কিন্তু এখন আর কেউ থাকে না। এখানে সারি সারি ঘরবাড়ি, অতলস্পর্শী পাতকুয়ো, মন্দির, পাথুরে পথ সবই আছে। নেই শুধু থাকার কেউ। প্রায় ২০০ বছর ধরে এভাবেই পরিত্যক্ত অবস্থায় দাঁড়িয়ে আছে ভৌতিক শহর কুলধারা। অনেকেই মনে করেন এই শহরের পরিত্যাক্ত বাড়িঘর গুলোতে ভুতের বাস। অনেক বার তার প্রমান মিলেছে। সবার ধারনা- অভিশপ্ত এ শহরে গেলে কেউই প্রাণ নিয়ে ফিরতে পারবে না।

কীভাবে ভুতুড়ে শহর কুলধারা হল?

থর মরুভূমির কোলে এই নগরের পত্তন হয়েছিল ১২৯১ সালে। যোধপুরের পালি সম্প্রদায়ের ব্রাহ্মণরা এখানে বসত গড়েছিলেন। কুলধারার সঙ্গে আশপাশের ৮৩টি গ্রামে গড়ে ওঠে বসতি। উন্নতির শীর্ষে থাকলেও একসময় ঘটে ভারতের ইতিহাসে সবচেয়ে অদ্ভুত এক ঘটনা। ১৮২৫ সালে রাখী পূর্ণিমার রাতে হঠাৎ করেই ফাঁকা হয়ে যায় সমস্ত কুলধারা অঞ্চল। রাতারাতি গায়েব হয়ে যায় এখানকার প্রায় ১৫০০ মানুষ। কি হয়েছিল সে রাতে? কেন ভ্যানিশ হয়ে যায় মানুশ? তার পেছনে অবশ্য ছোট্ট একটা ঘটনা রয়েছে।

সেসময় স্থানীয় এক জমিদার কুলধারায় বেড়াতে আসেন। গ্রাম প্রধানের মেয়েটির দিকে তার কুনজর পড়ে। সে গ্রামবাসীকে বলে, মেয়েটিকে তার হাতে তুলে দিতে। না হলে তাদের অনেক ভোগান্তি পোহাতে হবে বলে হুমকি দেয়। কিন্তু গ্রামবাসী সেই হুমকিতে ভয় পায়নি। তারা একত্রিত হয়ে নিজেদের আত্মসম্মানকে সর্বোচ্চ মর্যাদা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। ওই রাতেই তারা সবাই গ্রাম ছেড়ে চলে যায় চিরকালের জন্য। তবে যাওয়ার আগে কুলধারা গ্রামের মাটিকে গ্রামবাসীর প্রত্যেকে অভিশাপ দিয়ে যায়। প্রায় সাড়ে পাঁচশ বছর ধরে তিল তিল করে গড়ে ওঠা জনপদ কুলধারা রাতারাতি হয়ে পড়ে ভৌতিক। সেদিনের পর থেকে কুলধারাতে কেউই নতুন করে আবাসস্থল গড়ে তুলতে পারেনি। কেউ দখলও করতে পারেনি কোনো জায়গা। যারাই চেষ্টা করেছে, তাদেরই ভাগ্যে নেমে এসেছে নির্মম মৃত্যু।

দিল্লির প্যারানরমাল সোসাইটি থেকে ৩০ জনের একটি দল রাত কাটাতে গিয়েছিল কুলধারা গ্রামে। তাদের দাবি, রাতজুড়ে নাকি অলৌকিক ঘটনা ঘটে ধ্বংসস্তূপে ভরা এই গ্রামে। আচমকা রাতের বুক চিরে শোনা যায় আর্তচিৎকার। হঠাৎ কমে যায় তাপমাত্রা। সকালে নাকি গাড়ির গায়ে দেখা যায় শিশুদের হাতের ছাপ। সে কারণে মনে করা হয় গ্রামবাসীর অভিশাপ এখনো কার্যকর এই পরিত্যক্ত রহস্যময় নগরীতে।

এই অদ্ভুত ভুতুড়ে শহর কুলধারা তে যেসব ভৌতিক কান্ড ঘটে তার কোন ব্যাক্ষা আজও মানুষ খুঁজে পায়নি। ভবিষ্যতে কি পাবে? আমরা অপেক্ষা করব।

আরও পড়ুন

ভারতের যমজের গ্রাম – যেখানে ঘরে ঘরে জন্ম নেয় যমজ বাচ্চা

কলকাতার রহস্যময় রাইটার্স বিল্ডিং

copyright-notice

মন্তব্য লিখুন
SHARE
পড়াশোনা করছেন কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগে। পাশাপাশি সাংবাদিক এবং কলামিস্ট হিসেবে কর্মরত রয়েছেন। তিনি থ্রিলার মাস্টারের মুল কন্ট্রিবিউটরদের মধ্যে একজন। ভাল লাগে রহস্যের হাতছানি। তাইতো থ্রিলারপ্রেমি পাঠকের জন্য তুলে আনছেন পৃথিবীর আনাচে কানাচে ঘটে যাওয়া নানান ব্যাখ্যাহীন ও রহস্যময় ঘটনাগুলো।