ভয়ংকর মানুষখেকো পিরানহা মাছ, জলের আতংক যার নাম

443

আমাদের দৈনন্দিক খাবের তালিকায় মাছ থাকবে এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু মাছের খাবারের তালিকায় যদি মানুষের নাম থাকে তাহলে? বিষয়টা কিন্তু নিছক মজা নয়। বাস্তবে আসলেও এমন একটি মাছ আছে যার খাদ্য তালিকার মানুষের নাম আছে শীর্ষে। ভয়ংকর মানুষখেকো সেই মাছটির নাম হচ্ছে পিরানহা মাছ।

মানুষখেকো পিরানহা মাছ

এই মাছটি আক্রমণাত্মক ও হিংস্র মাছ হিসেবে বিশ্বব্যাপী পরিচিত। এদের আছে ধারালো দাঁত ও অত্যন্ত শক্ত চোয়াল যার কারণে যেকোনো কিছুই খুব দ্রুত কামড়ে খেতে পারে এরা। তাছারা দেহে দুপাশ থেকে শক্তকরে চেপে থাকা মাংসপেশী মাছটিকে আরো অনেক বেশি হিংস্র করে তুলেছে। এদের চোখ অনেক বড়। যার কারণে এরা খুব সহজেই শিকার খুঁজে বের করতে পারে এবং শিকার কোনভাবেই এদের চোখকে ফাঁকি দিতে পারে না। ক্ষিপ্রগতি এবং আক্রমণাত্মক আচরনের কারণে বিজ্ঞানীরা এই মাছের নাম দিয়েছে ‘রাক্ষুসে মাছ’।

এই মাছ কোথায় দেখা যায়?

দক্ষিন আমেরিকা, উত্তর আমেরিকা ও আফ্রিকায় জলাশয়গুলোতে মাছটি বেশি দেখা যায়। এদের অনেক প্রজাতি রয়েছে। পিরানহা স্বাদু পানির মাছ তবে এদের কিছু প্রজাতি লোনা পানিতেও বসবাস করতে পারে। এমনকি অ্যাকুয়ারিয়ামের ছোট্ট পরিবেশেও এরা স্বাচ্ছন্দে বেচে থাকতে পারে। পিরানহা মাছ প্রায় ১২ ইঞ্চি পর্যন্ত লম্বা হয়। আচরণে হিংস্র হলেও পিরানহারা কিন্তু দেখতে অনেক সুন্দর ও আকর্ষণীয় হয়। অনেক শৌখিন মানুষ তাদের অ্যাকুরিয়ামে পিরানহা মাছরাখতে পছন্দ করেন। অনুকূল পরিবেশে পিরানহা ১০ বছর পর্যন্ত বেঁচে থাকে।

পিরানহা এতোটাই হিংস্র আর ভয়ানক যে হলিউডে পিরানহাকে নিয়ে চলচ্চিত্র পর্যন্ত বানানো হয়েছে। শুধু চলচ্চিত্রেই নয়, বাস্তবেও পিরানহা মাছের হিংস্রতার অনেক উদাহরণ খুঁজে পাওয়া যায়। জলের ভেতরে কোথাও রক্তের সামান্য গন্ধ পেলেই এরা ঝাঁক বেঁধে সেখানে উপস্থিত হয়। আর সেখানে কোনো প্রাণীর অস্তিত্ব পেলে তো কথাই নেই নিমিষেই তাকে খেয়ে ফেলে।

পিরানহা মাছের হিংস্রতার কিছু উদাহরনঃ

এবার চলুন আপনাদের পিরানহা মাছ নিয়ে সবচেয়ে ভয়ংকর ঘটনাটি বলি। ১৯৮১ সালের সেপ্টেম্বর মাসের ১৯ তারিখ আনুমানিক ৩টা ৩০ মিনিটে আমাজনের খুব কাছ দিয়েই ব্রাজিলের একটি স্টিমার যাচ্ছিলো। প্রায় ৫৩০ জন যাত্রী ও ২০০ টন মালামাল ছিল স্টিমারটিতে। হঠাত্ একটি বন্দরের কাছে এসে স্টিমারটি উল্টে যায় ২৬০ ফুট গভীর পানিতে। স্টিমার উল্টানোর ফলে যাত্রীরা খুব আঘাত পায় এবং রক্তে ভরে যায় তাদের দেহ।। আর এই রক্তের গন্ধ পেতেই ঝাঁকে ঝাঁকে সেখানে হাজির হয়ে যায় কয়েকশো পিরানহা মাছ। হিংস্র সেই মাছগুলো তাদের ধারালো দাঁত নিয়ে আক্রমণ করে জান বাঁচাতে ব্যাস্ত নিরীহ মানুষ গুলোর উপর। ভয়ংকর এই দুর্ঘটনা থেকে মাত্র ১৮২ জন জীবন নিয়ে ফিরতে পেরেছিল। কিন্তু তাদের সবার অবস্থাই ছিলো খুব করুন। প্রত্যেকেরই শরীরের বিভিন্ন অংশ ছিল খত বিক্ষত এবং রক্তাক্ত। আর বাকি ৩৮৪ জন মানুষকে খুবলে খুবলে খেয়ে ফেলেছিল ভয়ংকর হিংস্র মাছগুলো!

সাবধান!

দক্ষিণ আমেরিকা অঞ্চলে এই মাছের হিংস্রতার অনেক ঘটনার কথা প্রায়ই শোনা যায়। অই অঞ্চলে মাছ ধরতে যাওয়া অনেকেই প্রায়ই ভয়ংকর এই মাছের আক্রমনের শিকার হচ্ছে। তাই আপনি যদি কখনও দক্ষিন আমেরিকা, উত্তর আমেরিকা ও আফ্রিকায় বেড়াতে জান, তাহলে সাবধান থাকবেন! পানির কাছাকাছি যাওয়া চলবে না। বাঘ কিংবা সিংহের কামড়ে মারা গেলও তা মানা যায়। কিন্তু মাছের কামড়ে মৃত্যু! নিশ্চয়ই কারো কাম্য হতে পারে না!

মানুষখেকো মাছ সম্পর্কে তো জানলেন, এবার চলুন মানুষখেকো গাছ সম্পর্কে জেনে নেই।

পৃথিবীর সমস্ত রহস্যমত ঘটনাগুলোর উপর ভিডিও দেখার জন্য সাবস্ক্রাইব করে রাখুনঃ আমাদের ইউটিউব চ্যানেল

copyright-notice

মন্তব্য লিখুন
SHARE
ইশতিয়াক রেহমান থ্রিলার মাস্টার ওয়েব পোর্টাল এর স্বপ্নদ্রষ্টাদের মধ্যে একজন। তিনি পড়াশোনা করছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইন্টারন্যাশনাল বিজনেস বিভাগে। একাডেমিক স্টাডির পাশাপাশি তিনি ভালবাসেন নন ফিকশন লেখালেখি করতে। এছাড়াও তিনি ওয়েব ডিজাইন, গ্রাফিক্স ডিজাইন, ভিডিও মেকিং ইত্যাদি কাজেও দক্ষ।