ভুতুড়ে জাহাজ কুইন মেরি

507

ভূত আছে নাকি নেই- এই নিয়ে শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে বিতর্ক চলে আসছে মানুষের মাঝে। আমাদের অনেকেই এই ব্যাপারটাকে স্রেফ ভ্রান্ত ধারনা বলে উড়িয়ে দিচ্ছেন, আবার তারা নানান অলৌকিক ঘটনা ঘটতে দেখে চমকে উঠছেন। এসব ঘটনা এমনই অদ্ভুত এবং অব্যাখ্যেও যে, এগুলো ঘটার পেছনে কোনো বৈজ্ঞানিক কারণ খুঁজে পাওয়া সম্ভব হয়নি। ফলে এ সমস্ত ঘটনার নাম দেয়া হয়েছে- ভুতুড়ে কর্কামণ্ড। এমনকি গভীর সমুদ্রে ভেসে চলা জাহাজগুলোও এই ভুতুড়ে কাণ্ডের হাত থেকে রেহাই পায়নি। আজ আমরা জানবো ভুতুড়ে জাহাজ কুইন মেরি সম্পর্কে।

ভুতুড়ে জাহাজ কুইন মেরি

পৃথিবীর ইতিহাসে এমন অনেক ঘটনা রয়েছে যেখানে কোনো প্রকার দুর্ঘটনা ছাড়াই রহস্যজনকভাবে হারিয়ে গেছে অনেক জাহাজ। নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে শত শত যাত্রী। নিউজ চ্যানেলগুলোতে প্রায়ই এধরনের নিউজ পাওয়া যায়। আবার হারিয়ে যাওয়া এসব জাহাজ প্রায়ই ভেসে ওঠে সমুদ্রের বুকে! কুইন মেরি জানাজটিকে আপনি সে তালিকায় রাখতে পারেন!

বিলাসবহুল জাহাজ হিসেবে পরিচিতি লাভ করা বৃহৎ জলযান কুইন মেরি এখন ভুতুড়ে জাহাজ হিসেবে খ্যাতি আর আলোচনার শীর্ষে রয়েছে। এই জাহাজটি একদিকে যেমন বৃহৎ, আধুনিক এবং বিলাসবহুল ছিল, ঠিক তেমনি এটি তৎকালীন সময়ের সবচেয়ে দ্রুতগামী জাহাজ ছিল। ১৯৩৬ সাল থেকে সমুদ্রের বুকে চলাচল শুরু করে কুইন ম্যারি। সুবিশাল অ্যাটল্যান্টিক পাড়ি দেওয়ার কাজে ব্যবহৃত হত এই জাহাজটি। কুইন মেরি মাত্র পাঁচ দিনে সুবিশাল অ্যাটল্যান্টিক পাড়ি দিতে পারত। যার কারনে অল্পদিনের মধ্যেই এটি ক্যালিফোর্নিয়ার সবচেয়ে বড় সমুদ্র রুটে সবচেয়ে বেশি চলাচলের খেতার অর্জন করেছিল।

ভুতুড়ে জাহাজ কুইন মেরি – কীভাবে ভুতুড়ে জাহাজে পরিণত হলো?

যাত্রা শুরুর একেবারে প্রথম দিন থেকেই জাহাজটিতে অদ্ভুত অদ্ভুত সব কাণ্ড ঘটতে শুরু করে। যাত্রার প্রথম দিনেই জাহাজটির ক্রু, যাত্রীসহ প্রত্যেকেই এর ভেতরে রহস্যময় ঘটনা প্রত্যক্ষ করেছেন বলে দাবি করেন। কিন্তু শুরুর দিকে এদের কথা কেউ সেভাবে পাত্তা দেয়নি। কিন্তু জাহাজে এধরনের অদ্ভুত ঘটনার পরিমান বারতেই থাকে। কিছুদিনের মাঝেই কুইন মেরির এই রহস্যময় আচরণের কথা ছড়িয়ে পরে। কুইন মেরিতে চাকরিরত ১৭ বছরের এক যুবক এর বর্ণনায় ফুটে ওঠে ভয়ংকর এক কাহিনী। কুইন মেরির ইঞ্জিন রুমে কয়লা সরবরাহ করার কাজ করতো সেই যুবক।

সে জানায়, জাহাজটির করিডরে সে একটি অস্পষ্ট ছায়াকে অনেকবার বাঁশি বাজাতে দেখেছে। তাছাড়া আট থেকে নয় বছরের একটি মেয়েকে ডেকের ওপর দিয়ে অনেকবার ভেসে ভেসে চলতে দেখেছে সে। এই ঘটনার পর অনেকেই বিষয়টাকে কিছুটা গুরুত্ব দেয়। কারন সুইমিংপুলে সাঁতার কাটার সময় অনেক যাত্রীই সাদা পোশাকধারী একজন নারী এবং আট থেকে নয় বছরের একটি মেয়েকে ডেকের ওপর দিয়ে ভেসে ভেসে চলতে দেখেছেন বলে জানায়। জাহাজটির কেবিন থেকে রহস্যময় শব্দ ভেসে আসতো বলেও জানান অনেকে। জাহাজে প্রেতাত্মা দেখেছেন বলেও দাবি করেন অনেকেই। অদ্ভুত এসব ঘটনার  সঠিক কোন ব্যাখ্যা দিতে পারেনি কেউ।

কুইন ম্যারিতে ভুতের উপদ্রবের কারন কি?

রহস্যময় এ জাহাজটি আসলে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধকে কেন্দ্র করে তৈরি করা হয়েছিল। পরবর্তীতে একে সৈন্যদের জাহাজে রূপান্তরিত করা হয়েছিল। ব্রিটিশ যুদ্ধজাহাজ কিউরা কেরার সঙ্গে একবার কুইন ম্যারি ধাক্কা খায়। যার ফলে কুইন ম্যারির প্রায় ৩০০ যাত্রি প্রান হারায়। তাই অনেকেই মনে করেন, এসব মৃত ব্যক্তির আত্মারাই ফিরে এসেছে কুইন ম্যারিতে। এই জাহাজ ছেড়ে তারা যেতে চায় না।

কুইন মেরি সম্পর্কে সর্বশেষ তথ্যঃ

১৯৬৭ সালে দ্য সিটি অফ লং বিচ নামক একটি প্রতিষ্ঠান কুইন মেরিকে কিনে নেয়। তারা জাহাজটিকে একটি ভাসমান হোটেল হিসেবে গড়ে তোলে। কিন্তু হোটেল হওবার পরও কুইন ম্যারির রহস্যময় ঘটনা থেমে থাকেনি। প্রতিনিয়ত ঘটতে থাকা এসব ভুতুরে ঘটনার কারনে  বাধ্য হয়ে কর্তৃপক্ষ কুইন মেরি জাহাজটিকে ভেঙ্গে ফেলার সিদ্ধান্ত নেন।

তথ্য সূত্রঃ বাংলাদেশ প্রতিদিন

আরও পড়ুন

রাজস্থানের ভুতুড়ে শহর কুলধারা

পুতুল বাড়ি – কলকাতার সবচেয়ে রহস্যময় ভুতুড়ে স্থান

হায়দ্রাবাদের ভুতুড়ে স্থান – রামোজি ফিল্মসিটি

বেগুনকোদর রেলষ্টেশন – রাত বাড়লেই যেখানে শুরু হয় ভুতের উপদ্রব!

copyright-notice

মন্তব্য লিখুন
SHARE
ইশতিয়াক রেহমান থ্রিলার মাস্টার ওয়েব পোর্টাল এর স্বপ্নদ্রষ্টাদের মধ্যে একজন। তিনি পড়াশোনা করছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইন্টারন্যাশনাল বিজনেস বিভাগে। একাডেমিক স্টাডির পাশাপাশি তিনি ভালবাসেন নন ফিকশন লেখালেখি করতে। এছাড়াও তিনি ওয়েব ডিজাইন, গ্রাফিক্স ডিজাইন, ভিডিও মেকিং ইত্যাদি কাজেও দক্ষ।