যেভাবে ধ্বংস হয়ে গিয়েছিল প্রাচীন সিন্ধু সভ্যতা

3189

ঋত্বিক রোসন অভিনিত মহেঞ্জোদারো মুভিটি আপনারা অনেকেই দেখেছেন। মুভিটি মূলত নির্মিত হয়েছিল মহেঞ্জোদারো নগরীর পটভূমিতে। মুভিটি দর্শকের মন জয় করতে পারেনি। আইএমডিবি রেটিং পেয়েছে মাত্র ৫.৯। কিন্তু এই মুভি দেখে অনেকেই প্রাচিন সিন্ধু সভ্যতা সম্পর্কে ধারণা পেয়েছে!

কিন্তু আপনি কি জানেন যে মহেঞ্জোদারো নামে একটি শহর আসলেই ছিলো? প্রাচীন সিন্ধু সভ্যতার সময়ে গড়ে উঠেছিল এই শহর। প্রাচীন সিন্ধু সভ্যতা এর অন্তর্গত এই শহর ছিল সম্পদে ভরপুর। কিন্তু কোন এক অদ্ভুত কারণে এক সময় সম্পূর্ণ সিন্ধু সভ্যতাই ধ্বংস হয়ে যায়। আজ আমরা সেই প্রাচীন সিন্ধু সভ্যতার উত্থান পতনের ইতিহাস জানবো।

সিন্ধু সভ্যতার অবস্থানঃ

বিশ্বের প্রাচীনতম এই সভ্যতাটি গড়ে উঠেছিল ভারত উপমহাদেশের উত্তর-পশ্চিমে অবস্থিত সিন্ধু উপত্যকায়। আজ থেকে প্রায় সাড়ে চার হাজার বছর আগে এই সভ্যতার জন্ম ও বিস্তার হয়েছিল। হরপ্পা ও মহেঞ্জোদারো নামের দুটি শহরই ছিল এই সিন্ধু সভ্যতার অন্যতম অংশ। সিন্ধু সভ্যতাটি ছিল খুবই উন্নত। পোড়া ইঁটের তৈরি বাড়ি, পাকা বাঁধানো রাস্তা, সমুদ্র বন্দর, আধুনিক পয়ঃপ্রণালী ইত্যাদির প্রমাণ পাওয়া গেছে মহেঞ্জোদারো ও হরপ্পা নামক দুটি সহরের ধ্বংসাবশেষ থেকে। প্রায় পঞ্চাশ লক্ষ মানুষের বাস ছিল ঐ অঞ্চলে। মহেঞ্জোদারো ও হরপ্পায় খনন করে যে সব নিদর্শন পাওয়া গেছে তা থেকে অনুমান করা যায় যে সেসময়ে ভারতের সঙ্গে অন্যান্য দেশের বাণিজ্যিক সম্পর্ক ছিল। তাছাড়া সিন্ধু সভ্যতার মানুষেরা যে বাণিজ্য, বিজ্ঞান, ধাতুবিদ্যা ইত্যাদিতেও দক্ষ ছিল তারও প্রমাণ পাওয়া গেছে।

সিন্ধু সভ্যতা এর অমীমাংসিত রহস্যঃ

কিন্তু উন্নত এবং সমৃদ্ধ এই সভ্যতার কি করে পতন ঘটল তার কোন সঠিক কারণ জানা যায় নি। হঠাৎ কি করে কি এমন ঘটলো যে গোটা সিন্ধু সভ্যতা বিলিন হয়ে গেল? অনেক বিশেষজ্ঞেরা ধারণা করেন উত্তর-পশ্চিম প্রান্ত থেকে আর্য্যদের আক্রমণের কারণে এই সভ্যতা নির্মূল হয়ে যায়, যদিও এর কোন প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

আবার অনেক বিজ্ঞানী বলেন যে শহরের অধিবাসীদের অবহেলার ফলে এই সভ্যতার পতন হয়। সথিকভাবে রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে শহরগুলির রাস্তাঘাট জঞ্জালে ভর্তি হয়ে যায়। যার ফলে বাসিন্দাদের কার্য ক্ষমতারও  অবনতি হয়। তাছারা এমন প্রমাণও পাওয়া গেছে যে তখন বিশাল মাত্রায় ঐ স্থান থেকে লোকজন অন্য স্থানে সরে যাচ্ছিলো। এবং দেখতে দেখতে একসময় বিলুপ্ত হয়ে যায় এই সিন্ধু সভ্যতা।

সম্প্রতি অবশ্য একটি নতুন তথ্য পাওয়া গেছে। গবেষণা করে জানা গেছে যে ঐ অঞ্চলে আজ থেকে প্রায় ৪১০০ বছর আগে আনুমানিক ২০০ বছর ব্যাপী অনাবৃষ্টি দেখা দেয়। বৃষ্টিপাতের পরিমাণ হঠাৎ নাটকীয়ভাবে কমে যায়। এবং ২০০ বছর ধরে বৃষ্টি না থাকার কারণে মরুভূমির মত পরিবেশের সৃষ্টি হয়। যার ফলে ঐ প্রাচীন সভ্যতার দ্রুত অবনতি হতে থাকে। যার কারণে ঐ সমৃদ্ধ সভ্যতার পতন হয়।

তবে আরেক দল বিজ্ঞানী মনে করেন যে এই অঞ্চলে বিশাল অংশ জুড়ে প্রচন্ড এক বিস্ফোরণ ঘটেছিল। যার ফলে বাড়ি ঘর রাস্তাঘাট পাহাড় পর্বত সব স্রেফ ছাতু হয়ে যায়। ঐ এলাকার ধ্বংসাবেস দেখে তারই প্রমান পাওয়া যায়। জাক জমক পূর্ণ উন্নত এই সভ্যতা পরিনত হয় ধ্বংসস্তূপে।

কেন এমন একটি সমৃদ্ধশালী সভ্যতা এভাবে ধ্বংস হয়ে গেল, তা আমাদের জানা নেই। বিজ্ঞানীরা জানার চেষ্টা আজও চালিয়ে যাচ্ছেন। হয়ত কোন একদিন এই রহস্য উদ্ঘাটিত হবে। আমরা অপেক্ষায় রইলাম।

আরও পড়ুনঃ

মেঘের শহর মাচুপিচু | হারিয়ে যাওয়া ইনকা সভ্যতা

copyright-notice

মন্তব্য লিখুন
SHARE
নাজিম-উদ-দৌলা পেশায় মার্কেটিং ম্যানেজার হলেও, মানুষের নিকট তিনি অধিক পরিচিত একজন থ্রিলার রাইটার হিসেবে। দীর্ঘদিন ধরে লেখালেখি করছেন বিভিন্ন ব্লগ, ওয়েব পোর্টাল এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। থ্রিলার ধর্মি ছোট গল্প ও উপন্যাস লিখতে ভালবাসেন। ইনকারনেশন, ব্লাডস্টোন, ব্রিজরক্ষক ইত্যাদি তার উল্লেখযোগ্য মৌলিক থ্রিলার উপন্যাস।