টাঙ্গুসকার বিস্ফোরণ – ইতিহাসের সবচেয়ে ভয়াবহ বিস্ফোরণ

235

পৃথিবীর ইতিহাস ঘাটলে বেশ কিছু রহস্যময় বিস্ফোরণের কথা জানা যায়। বলা নেই কওয়া নেই, হঠাৎ করে  প্রচন্ড শব্দে চারিদিক কাঁপিয়ে বিস্ফোরণ ঘটেছে মাটির অভ্যন্তরে, মাটির উপরিভাবে অথবা বায়ুমন্ডলে। আর পৃথিবীর মানুষ অবাক হয়ে সেই ঘটনার সাক্ষী থেকেছে। এই সব ঘটনার কোন যৌক্তিক কারণ খুঁজে পাওয়া যায়নি। তবে এতটুকু নিশ্চিত হয়ে বলা যায় যে যে এই ঘটনা গুলোর সাথে মানুষ জড়িত নয়। আজ আমরা পৃথিবীর ইতিহাসে ঘটে যাওয়া সবচেয়ে ভয়ংকর ও রহস্যময় বিস্ফোরণ – টাঙ্গুসকার বিস্ফোরণ সম্পর্কে জানব।

টাঙ্গুসকার বিস্ফোরণ কোথায় ঘটেছিল?

দুনিয়া কাঁপানো রহস্যময় বিস্ফোরণের কথা আসলেই সবার আগে চলে আসে ১৯০৯ সালের টাঙ্গুসকার বিস্ফোরণ এর কথা। বিস্ফোরণটি হয়েছিল রাশিয়ার টাঙ্গুসকার নদীর তীরবর্তী অঞ্চলে। সেখানে তখন চারদিকে ছিল শুধু ঘন বন। সেই বনের উপরে বায়ুমন্ডলে ঘটে প্রচন্ড বিস্ফোরণ। বিস্ফোরণের আওয়াজ এতটাই প্রকট ছিল যে সেই শব্দে কেপে উঠেছিল বাড়িঘর, স্থাপনা আর পায়ের নিচের মাটি। আশে পাশের কয়েকটা শহরের মানুষও তা শুনতে পেয়েছিল। বিস্ফোরণের পর যখন মানুষজন বেরিয়ে আসে তখন তারা দেখতে পায় বিশালাকার একটা আগুনের গোলোক এসে বনের ভেতর পড়ছে।

এখন সেই বনের মাঝের বিশাল অঞ্চলে কোনো গাছ নেই। এখানেই এসে পড়েছিলো সেই বিস্ফোরণের আগুনের গোলা এমনটিই বলা হয়।

টাঙ্গুস্কার বিস্ফোরণের মত ভয়াবহ আরেকটি বিস্ফোরণ এর ঘটনা জেনে নিন।
চেরনোবিল দুর্ঘটনা – বিশ্বের সবচেয়ে ভয়ংকর পারমাণবিক বিস্ফোরণ

বিস্ফোরণের পূর্বাবস্থাঃ

এই বিস্ফোরণের পূর্বাবস্থা দেখেছেন এমন দাবি করেছেন অনেকেই। তাদের একজনের বর্ণনা ছিল এমনে-
“হঠাৎ তাকিয়ে উত্তরের আকাশ চিরে দুই ভাগ হয়ে যেতে দেখলাম। সে ফাঁক দিয়ে বেরিয়ে এল আগুন। তারপর হল প্রচণ্ড শব্দ। ছিটকে পড়লাম চেয়ার থেকে কয়েক মিটার দূরে। কেঁপে উঠল বাড়িঘর, মাটি…।” এভাবেই বর্ণনায় এসেছে টাঙ্গুসকার রহস্যময় বিস্ফোরণের কথা।

বিস্ফোরণের পরের অবস্থাঃ

টাংগুসকার বিস্ফোরণ এর আশপাশের এলাকায় যা ছিল সব নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ৫-১০ কি.মি উপরে বায়ুমণ্ডলে মহাশূন্য থেকে আগত কোনো বৃহৎ উল্কা বা ধূমকেতুর সঙ্গে বায়ুর সংঘর্ষের ফলেই এই বিস্ফোরণ ঘটেছিল। এখন পর্যন্ত ভূপৃষ্ঠে বা ভূপৃষ্ঠের উপরস্থিত বায়ুমণ্ডলে ঘটা সবচেয়ে শক্তিশালী বিস্ফোরণ এটি। যদিও এই বিস্ফোরণ ঘটেছিল বায়ুমণ্ডলে কিন্তু ভূপৃষ্ঠে এর প্রভাব কম ছিল না। হিরোশিমার পারমাণবিক বোমার চেয়ে হাজার গুণ বেশি শক্তিশালী ছিল টাঙ্গুসকার বিস্ফোরণ।

টাঙ্গুসকার বিস্ফোরণ এর কারন কি ছিল?

এ ধরনের বিস্ফোরণের সঠিক কারণ খুঁজে বের করা মুশকিল। তবে বিজ্ঞান এ ধরনের বিস্ফোরণকে স্বীকৃতি দেয়। প্রাকৃতিক কারণেই এ ধরনের বড় আকারের বিস্ফোরণ ঘটতে পারে বলে তারা জানায়। মহাকাশ থেকে ছিটকে আসা উল্কাপিণ্ড এ জন্য দায়ী হতে পারে। এই বিস্ফোরণ এর কারনে সেই স্থানের আশপাশে প্রায় ২১৫০ বর্গ কিলোমিটার এলাকায় আনুমানিক আট কোটি গাছ জ্বলে পুড়ে গিয়েছিল। এবং বিস্ফোরণের ফলে যে শক ওয়েভ সৃষ্টি হয়েছিল তার  প্রভাবে রিখটার স্কেলে ৫.০ মাত্রার ভূকম্পন হয়েছিল, যা একটি শহর ধ্বংস করে দেওয়ার জন্য যথেষ্ট ছিল। এ ঘটনার পর অনেক বিজ্ঞানী এবং গবেষক এর কারণ খুঁজে বের করার চেষ্টা চালিয়েছেন। কিন্তু এখনো এর কোনো সঠিক কারন খুজে পাওয়া যায়নি।

টাঙ্গুসকার বিস্ফোরণ নিয়ে এই ছিল আমাদের আজকের প্রতিবেদনে। আগামিতে অন্য কোন রহস্যময় বিস্ফোরণ সম্পর্কে আমরা জানার চেষ্টা করব। সে পর্যন্ত ভাক থাকুন সবাই।

copyright-notice

মন্তব্য লিখুন