টৌরেড – পৃথিবীর মানচিত্রে যে দেশের কোন অস্তিত্ব নেই!

241

১৯৫৪ সালের কথা। টোকিও এয়ারপোর্টে এক মধ্যবয়সী ব্যক্তি এলো। সাধারণ একজন ব্যবসায়ী, জাপানি এক কোম্পানির মিটিং করতে এসেছে। কিন্তু ইমিগ্রেশনে একটা সমস্যা হলো! লোকটার পাসপোর্টে যে দেশের নাম ছিলো, পৃথিবীর মানচিত্রে সেই দেশের কোনো অস্তিত্ব নেই! দেশটির নাম টৌরেড – আমাদের আজকের আর্টিকেল সেই চমকপ্রদ ঘটনা নিয়েই।

টৌরেড থেকে আসা এক রহস্যময় মানুষ

১৯৫৪ সালে টোকিও এয়ারপোর্টে আসা ঐ ব্যক্তির পাসপোর্ট থেকে জানা যায় তার নাম জেনাসফার। আর তার দেশের নাম কিংডম অফ টৌরেড। দেশটির নাম শুনে ইমিগ্রেশন অফিসাররা অবাক হয়ে যায়। তারা এই দেশের নাম আগে কখনো শোনেনি। তাকে জিজ্ঞেস করা হয় দেশটি কোথায়? সে উত্তরে জানায় দেশটির অবস্থান ফ্রান্স ও স্পেনের মাঝামাঝি। কিন্তু পৃথিবীর মানচিত্রে ফ্রান্স এবং স্পেনের মাঝে এমন কোনো দেশের অস্তিত্ব নেই! শুধু তাই নয়, সে টোকিওততে যে হোটেলে রুম বুকিং দিয়েছে, টোকিও শহরে সেই নামে কোনো হোটেল নেই। এমনকি যে কোম্পানির সাথে তার মিটিং আছে বলছে, সেই নামেও জাপানে কোনো কোম্পানি নেই!

এই ঘটনায় এয়ারপোর্টের ইমিগ্রেশন অফিসাররা খুব অবাক হলো। তারা এই রহস্যময় লোকটিকে আটকে ফেললো। তাকে একটি কামরায় নিয়ে নজরদারিতে রাখা হলো। জব্দ করা হলো সাথে আনা ব্যাগ। এর কাছ থেকে আরও তথ্য বের করতে হবে। কিন্তু লোকটা একদম স্বাভাবিক। তাকে দেখে মনে হচ্ছে সত্যি কথাই বলছে। তার কথায় কিংবা আচরণে সন্দেহ জাগার মতো কিছু নেই।

কিন্তু আরও অবাক করা বিষয়টি ঘটলো পরদিন। লোকটিকে যে ঘরে আটকে রাখা হয়েছিলো সেই ঘরে ঢুকে দেখা গেলো কিছুই নেই! ঘর সম্পূর্ণ ফাঁকা! শুধু তাই না, লোকটার সাথে আনা সেই ব্যাগতাও গায়েব। পড়ে আছে শুধু পাসপোর্ট! এরপর আর লোকটাকে কখনো দেখা যায়নি, কেউ তার কথা কোনোদিন শোনেওনি।

কিংডম অফ টৌরেড নিয়ে যত জল্পনা-কল্পনা

এই ঘটনা নিয়ে আজ পর্যন্ত অনেক জল্পনা-কল্পনা হয়েছে। লোকটার সাথের সেই পাসপোর্ট- ভিসার কাগজ পরীক্ষা কোনো ঝামেলা পাওয়া যায়নি। কেউ কেউ মনে করে লোকটা হয়তো অন্য কোনো প্যারালাল ইউনিভার্স থেকে এসেছে। সেখানে হয়তো সত্যিই টৌরেড নামে কোনো দেশ আছে। আবার অনেকেই বলছে লোকটা ভবিষ্যৎ থেকে এসেছিলো। আবার কিছু লোকের ধারণা লোকটা প্রচণ্ড বুদ্ধিমান। মজা করে ঘোল খাইয়েছে ইমিগ্রেশনের অফিসারদের। হয়তো এয়ারপোর্টে তার কিছু পরিচিত লোক ছিলো, যারা এই কাজে তাকে সাহায্য করেছে।

টৌরেড নিয়ে সেই রহস্যময় ঘটনার ভিডিও প্রতিবেদনটি দেখুন
থ্রিলার মাস্টার ইউটিউব চ্যানেলে।

আসল ঘটনা যাই হোক। ১৯৫৪ সালের জুলাই মাসে আলোড়ন সৃষ্টিকারী এই ঘটনা নিয়ে আজও মানুষ জল্পনা-কল্পনা করে যাচ্ছে। এই ঘটনার উপর লেখা হয়েছে বই, তৈরি হয়েছে শর্টফিল্ম। রহস্যপ্রেমী মানুষের কাছে এই ঘটনাটি চিরকার খুবই আকর্ষনীয় একটি বিষয় হয়েই থাকবে।

বন্ধুরা, আজকের আর্টিকেল এখানেই শেষ করছি। আগামীতে আরও রহস্যময় ঘটনা নিয়ে উপস্থিত হয়ে যাবো। সে পর্যন্ত ভালো থাকো সবাই।

আরও পড়ুন:

অলুক্ষনে দম্পতি – ভয়ংকর বিপদ যাদের পিছু ছাড়েনা!

বিশ্বকাপের অভিশাপ | ২০২২ বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্ব থেকেই বাদ পড়ে যাবে ফ্রান্স?

উন্মোচিত হলো ইউএফও (UFO) বা এলিয়েন স্পেসশিপ এর পেছনের রহস্য

মন্তব্য লিখুন
SHARE
ইশতিয়াক রেহমান থ্রিলার মাস্টার ওয়েব পোর্টাল এর স্বপ্নদ্রষ্টাদের মধ্যে একজন। তিনি পড়াশোনা করছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইন্টারন্যাশনাল বিজনেস বিভাগে। একাডেমিক স্টাডির পাশাপাশি তিনি ভালবাসেন নন ফিকশন লেখালেখি করতে। এছাড়াও তিনি ওয়েব ডিজাইন, গ্রাফিক্স ডিজাইন, ভিডিও মেকিং ইত্যাদি কাজেও দক্ষ।