যমজের গ্রাম – যেখানে ঘরে ঘরে জন্ম নেয় যমজ বাচ্চা

662

ভারতের কেরালা রাজ্যে একটি গ্রাম আছে যার নাম কোধিনি। এক অদ্ভুত এক কারনে এই গ্রামটি বিখ্যাত হয়েছে সবার কাছে। এই গ্রামে গেলেই বুঝতে পারবেন তার কারন। অবাক হয়ে যাবেন যখন দেখবেন এই গ্রামে বসবাস রত সবাই যমজ। এই গ্রামে যে দিকেই তাকাবেন দেখতে পাবেন জোড়ায় জোড়ায় একই রকম যমজ মানুষ। তাই মানুষ এই গ্রামের নাম দিয়েছে যমজের গ্রাম । এটি কেবল ভারত নয়, সারাবিশ্বের কাছেই হয়ে উঠেছে বিস্ময়কর গ্রাম। কারণ একমাত্র এখানেই আছে বিশ্বের সবচেয়ে বেশি যমজের বাস। যার কারনে গ্রামটি সবার কাছে ‘টুইন গ্রাম’ হিসেবেও পরিচিত পেয়েছে।

কতজন যমজ আছে এই গ্রামে?

সমগ্র বিশ্বে গড়ে এক হাজার মানুষের মধ্যে একজোড়া যমজ পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে কিনা তাতেও সন্দেহ আছে কিন্তু ২০১৫ সালের পরিসংখ্যানে দেখা গেছে ভারতের এই গ্রামের মোট ২ হাজার বাসিন্দার মধ্যে ২২০ জোড়াই জমজ। অর্থাৎ এই গ্রামের যমজের হার ৪২ শতাংশ।

যমজের গ্রাম এর অবস্থানঃ

কোধিনি গ্রামটি কালিকট বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মাত্র ১৫ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। এই গ্রামে বসবাস করছে প্রায় দুই হাজার পরিবার। তবে মজার ব্যাপার হলো, এসব পরিবারে ২২০ জোড়ারও বেশি যমজ রয়েছে। সাধারণ যমজ বা নন-আইডেনটিক্যাল টুইন এবং হুবহু একই রকম দেখতে আইডেনটিক্যাল টুইন সব ধরনের যমজই দেখা যায় এই গ্রামে। আবার দুটি যমজ ভাইবোনের দেখাও মিলবে।

যমজের গ্রামের অমীমাংসিত রহস্যঃ

কিন্তু এই গ্রামে যমজের মানুষ থাকার রহস্য কি? কেন প্রতিবছর এই গ্রামে প্রচুর যমজ শিশুর জন্ম হয়? এই সম্পর্কে অনেকে অনেক ধরনের মন্তব্য করেন। বিশেষজ্ঞ ও ডাক্তাররা এর কারণ খুঁজে বের করার চেষ্টা করেছেন। । ধারনা করা হয় ১৯৪৯ সালের দিকে এই গ্রামে প্রথম  যমজ শিশু জন্মগ্রহণ করে। এরপর থেকে প্রতি বছর এই সংখ্যা কেবল বেড়েই চলেছে। অনেকেই ধারনা করেন এই গ্রামের পরিবেশ এবং জিনগত কারণে এই গ্রামে অধিকাংশ যমজ শিশু জন্ম নেয়। কিন্তু তাহলেও প্রশ্ন থেকে যায় কারন এই গ্রামের যেসব মেয়ের বাইরে অন্য কোথাও বিয়ে হয়েছে সেখানেও তারা যমজ সন্তান জন্ম দিয়েছেন। তাহলে এখানে মুল রহস্যটা কি? এই রহস্যের কেউ কোনো কূলকিনারা করতে পারেনি। এ এক অদ্ভুত প্রাকৃতিক বিস্ময়।

প্রতিবছর কতটি যমজ শিশুর জন্ম হয়?

২০০৮ সালে গ্রামটিতে ১৫ জোড়া যমজের জন্ম হয়। আর গত ৫ বছরে জন্ম নিয়েছে ৬০ জোড়া যমজ শিশু। এবং এর সংখ্যা বেড়েই চলছে। মজার ব্যাপার হলো এখানে অধিকাংশ যমজই ‘আইডেন্টিকাল টুইন’ অর্থাৎ দেখতে হুবহু একই রকম। যার কারনে এই গ্রামে গেলে যে কাররই বিভ্রান্তিকর অবস্থায় পড়তে হয়।

যমজদের নিয়ে যত বিভ্রান্তিঃ

এই গ্রামের স্থানীয়রাই কার সময় সমস্যায় পরে যায়। কারন একই চেহারার দুজন মানুষকে তারা নিজেরাই ঠিকমত আলাদা করতে পারে না বাইরের মানুষ তো দূরে থাক। তারপরও এই বিষয়টি নিয়ে তারা বেশ মজাও অনুভব করে থাকে। প্রায়ই দূর দুরান্ত থেকে মানুষ ছুটে আসে কোধিনি গ্রামের যমজদের দেখতে। এর যত ব্যাখ্যাই থাকুক না কেন, ভারতবর্ষের মানুষের কাছে এ এক অমীমাংসিত রহস্য।

আরও পড়ুনঃ 

গদ্রবঙ্গা – সাঁওতাল দের পালিত এক ভয়ংকর অপদেবতা

বেগুনকোদর রেলষ্টেশন – রাত বাড়লেই যেখানে শুরু হয় ভুতের উপদ্রব!

কলকাতার রহস্যময় রাইটার্স বিল্ডিং

copyright-notice

মন্তব্য লিখুন
SHARE
পড়াশোনা করছেন কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগে। পাশাপাশি সাংবাদিক এবং কলামিস্ট হিসেবে কর্মরত রয়েছেন। তিনি থ্রিলার মাস্টারের মুল কন্ট্রিবিউটরদের মধ্যে একজন। ভাল লাগে রহস্যের হাতছানি। তাইতো থ্রিলারপ্রেমি পাঠকের জন্য তুলে আনছেন পৃথিবীর আনাচে কানাচে ঘটে যাওয়া নানান ব্যাখ্যাহীন ও রহস্যময় ঘটনাগুলো।